তারেক রহমান-আনোয়ার বৈঠক: শ্রম ও বাণিজ্য সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ
মেলবোর্ন, ২২ জুন- মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় মালয়েশিয়ার…
মেলবোর্ন, ২২ জুন- কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী প্রার্থী আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। দেশটির নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, রোববারের এই ভোটে তিনি ৪৯.৬৬ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেনেটর ইভান সেপেদা পেয়েছেন ৪৮.৭০ শতাংশ ভোট।
প্রায় সম্পূর্ণ ব্যালট গণনার ভিত্তিতে দুই প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় আড়াই লাখ ভোট। এত অল্প ব্যবধানের এই ফলাফলকে কলম্বিয়ার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দে লা এসপ্রিয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারে তিনি অপরাধ দমন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রের আকার কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ক্ষমতায় গেলে কর কমানো, জ্বালানি ও তেল খাত সম্প্রসারণ এবং রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ছোট করার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, কিছু জনপ্রিয় সামাজিক সুবিধা যেমন ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির নীতি তিনি বহাল রাখবেন।
জয়ের পর সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তিনি কেবল তার ভোটারদের জন্য নয়, বরং সব কলম্বিয়ানের জন্যই শাসন করবেন। নাগরিক অধিকার সম্মান ও রাজনৈতিক বিভাজন কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
এই নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ইভান সেপেদা ছিলেন বর্তমান বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেট্রোর নীতির ধারাবাহিকতার পক্ষে। তিনি দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা, শ্রমিকবান্ধব সংস্কার, নতুন তেল প্রকল্পে স্থগিতাদেশ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে শান্তি আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
অন্যদিকে দে লা এসপ্রিয়েলা পেট্রোর সরকারকে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দায়ী করেন। তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে আলোচনার অবসান ঘটানোর ঘোষণা দেন এবং আইনশৃঙ্খলা কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেন।
ভোটের ফলাফল খুবই কাছাকাছি হওয়ায় নতুন প্রেসিডেন্টকে সংসদে সমর্থন আদায়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। কারণ সংসদের উভয় কক্ষেই পেট্রোর দল এখনো সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে রয়েছে, যদিও কোনো দলেরই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই।
নির্বাচনের আগে থেকেই দে লা এসপ্রিয়েলার ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিতর্ক ছিল। স্থানীয় অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তার অনেক ব্যবসা বর্তমানে ক্ষতির মুখে রয়েছে এবং আইন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানই তার সবচেয়ে লাভজনক ক্ষেত্র।
নির্বাচনের দিন প্রায় ৪ কোটি ১৪ লাখ ভোটারের মধ্যে ২ কোটি ৬০ লাখের বেশি ভোট পড়ে। এর পাশাপাশি প্রায় সাড়ে চার লাখ ভোট ছিল সাদা ব্যালট, যা সাধারণত প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী সেপেদা ফলাফল পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রায় ৩৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের ফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্গণনা প্রয়োজন। তিনি সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার আহ্বানও জানান।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দে লা এসপ্রিয়েলার সমর্থকরা বিজয় উদযাপন করেন, অন্যদিকে সেপেদার সমর্থকদের মধ্যে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ প্রকাশ পায়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কলম্বিয়ার এই নির্বাচনের মাধ্যমে লাতিন আমেরিকায় ডানপন্থী রাজনীতির একটি নতুন ধারা আরও শক্তিশালী হলো, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে চিলি, আর্জেন্টিনা, কোস্টারিকা, বলিভিয়া ও ইকুয়েডরে একই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au