কক্সবাজারে পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে পৌঁছেছে। সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ও কক্সবাজার শহরে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ এসব মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।
সর্বশেষ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ের একটি অংশ ধসে স্থানীয় বাসিন্দা আলী আকবরের (৫০) বসতঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক আলী আকবরকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, পাহাড়ধসের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হাশেম বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ বিকট শব্দে পাহাড়ের একটি বড় অংশ বসতঘরের ওপর ভেঙে পড়ে। আশপাশের লোকজন দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নিয়ে তিনজনকে হাসপাতালে পাঠালেও একজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এদিকে উখিয়ার ১১ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে রাত ৩টার দিকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ চারজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও একজন। নিহতরা হলেন উম্মে হাবিবা (২৭), তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রিহান (৫) এবং হারুনুর রশিদ (৩)।
এর আগে রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে মাটিচাপা পড়ে একরাম (৭) নামে এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকেরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করেন।
একই রাতে রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে পাহাড়ধসে বসতঘর চাপা পড়ে মারা যান মোহাম্মদ কামাল হোসাইন (৪৪), তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ আনাস।
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা জানান, রাতের বিভিন্ন সময়ে কাছাকাছি এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি অত্যন্ত বেড়ে গেছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারী মানুষকে নিয়মিত মাইকিং করে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানিয়েছেন, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী আরও অন্তত দুই দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
স্থানীয় প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পাহাড়ধসপ্রবণ এলাকায় নজরদারি জোরদার করেছে। একই সঙ্গে যেসব পরিবার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করছে, তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানানো হচ্ছে।