যুক্তরাষ্ট্রে নদীতে জলবিমানের ‘কঠিন অবতরণ’,।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ইস্ট নদীতে একটি জলবিমান জরুরি অবতরণ করার পর তাতে থাকা আটজন আরোহীকে নিরাপদে উদ্ধার করেছে নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই)। ঘটনায় দুজন সামান্য আহত হলেও তারা হাসপাতালে ভর্তি বা চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানান। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)।
স্থানীয় সময় দুপুরে ম্যানহাটনের ইস্ট ২৩তম স্ট্রিট ও এফডিআর ড্রাইভ সংলগ্ন ইস্ট নদীতে একটি বিমান পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী দল। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পায়, জলবিমানটি পানিতে সোজা অবস্থায় ভাসছে। পরে সেটিকে নিরাপদে টেনে কাছের একটি ঘাটে নিয়ে যাওয়া হয়।
দমকল বিভাগ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটি ছিল কোডিয়াক ১০০ মডেলের একটি জলবিমান। এতে মোট আটজন আরোহী ছিলেন। তাদের সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুজনের শরীরে সামান্য আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তারা চিকিৎসা নিতে রাজি হননি।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, অবতরণের সময় পাইলট স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি জোরে বিমানটি পানিতে নামান। এর ফলে বিমানের ডানার একটি সহায়ক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ভেঙে যায়। বিমান চলাচলের পরিভাষায় এ ধরনের ঘটনাকে ‘হার্ড ল্যান্ডিং’ বা ‘কঠিন অবতরণ’ বলা হয়, যেখানে অতিরিক্ত ধাক্কার কারণে বিমানের কাঠামোগত ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
এফএএ আরও জানায়, দুর্ঘটনার সময় বিমানটি কোনো এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বা নির্দেশনার আওতায় ছিল না। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ, পাইলটের সিদ্ধান্ত এবং যান্ত্রিক কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।
প্রাথমিকভাবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হলেও ব্যস্ত নগরীর মাঝখানে নদীতে জলবিমানের এই জরুরি অবতরণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সুত্রঃ বিবিসি