রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে ফ্রান্স।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জুলাই- রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহের পর ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চল। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অন্তত ৩ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত দমকলকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিশেষ পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করেছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ফরাসি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণাঞ্চলের সাঁ-মারি-লা-মের এলাকায় প্রথম দাবানলের সূত্রপাত হয়। পরে প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত পাশের কানেত-অঁ-রুসিওঁ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। শুষ্ক আবহাওয়া ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শুরু থেকেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন উদ্ধারকর্মীরা।
পাইরেনিস-অরিয়েন্টালস অঞ্চলের প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে প্রায় তিন হাজার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি স্থানীয় তিনটি ক্যাম্পসাইটে অবস্থানরত পর্যটক। দাবানল নিয়ন্ত্রণের সময় দুইজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ২০০ জন দমকলকর্মী, চারটি পানি বর্ষণকারী বিমান এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। আগুন যাতে আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে না পড়ে, সে লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, শুধু এই দাবানল নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলায় বুধবার থেকে ১ হাজার ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গত জুন মাসে ফ্রান্সে টানা ১১ দিন তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। অনেক এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ছিল। দীর্ঘস্থায়ী এই তাপপ্রবাহে বনাঞ্চলের গাছপালা ও উদ্ভিদ শুকিয়ে যাওয়ায় দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
দাবানল এবং সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি নিয়েও দেশটিতে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের দুর্বল প্রস্তুতির অভিযোগ তুলে ফরাসি পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাড়তে থাকা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।