বাংলাদেশ

দুই বছরে নিরাপত্তা হেফাজতে আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতা-কর্মী মৃত্যু : মানবাধিকার সংস্থার দাবি

  • 2:01 pm - July 18, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৫ বার
দুই বছরে নিরাপত্তা হেফাজতে আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতা-কর্মী মৃত্যু : মানবাধিকার সংস্থার দা।ছবি: সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে বাংলাদেশে পুলিশ ও কারা হেফাজতে মোট ২৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩ জন নেতা-কর্মী রয়েছেন। তবে কারা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ এসব মৃত্যুর ক্ষেত্রে নির্যাতন বা অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

এমএসএফের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে পুলিশ হেফাজতে ৩০ জন এবং কারা হেফাজতে ২২৭ জন মারা গেছেন। সংগঠনটির দাবি, আওয়ামী লীগের ৪৩ নেতা-কর্মীর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ জন, ২০২৫ সালে ২৪ জন এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী নূর খান বলেন, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা উদ্বেগজনক। বিশেষ করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষ্য, গ্রেপ্তার, জিজ্ঞাসাবাদ বা কারাগারে চিকিৎসা না পাওয়ার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা উচিত।

তবে অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলিম এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, কারাগারে নির্যাতন বা চিকিৎসায় অবহেলার কারণে মৃত্যুর কোনো রেকর্ড নেই। তার দাবি, বন্দিরা অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানেই মৃত্যু হলে সেটিকে কারা হেফাজতে মৃত্যু হিসেবে দেখানো হলেও কারাগারে নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটে না। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত করা হয় এবং কারা কর্তৃপক্ষ বন্দিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে না।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তরও। সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাই তদন্ত করা হয়। কোথাও নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে অনেক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় না বলেও তিনি দাবি করেন।

অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, একই সময়ে পুলিশ ও কারা হেফাজতে ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ হেফাজতে ২২ জন এবং কারা হেফাজতে ১৯০ জন মারা গেছেন। সংস্থাটি নিহতদের রাজনৈতিক পরিচয় সংরক্ষণ করে না।

এছাড়া হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা হেফাজতে ২৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংগঠনটির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কারাগারে মারা যাওয়া ৫৮ জনের মধ্যে ১৫ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, একজন বিএনপির নেতা এবং বাকি ৪২ জন সাধারণ বন্দি।

এইচআরএসএসের প্রধান নির্বাহী ইজাজুল ইসলাম বলেন, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশিত পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হতে পারে। কারণ অনেক ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায় না। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক বন্দি অসুস্থ অবস্থায় কারাগারে গেলেও সেখানে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এছাড়া গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের সময় নির্যাতনের অভিযোগও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রতিবেদনে কয়েকটি আলোচিত ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফরিদপুরে ছাত্রলীগ কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যু। পরিবারের অভিযোগ, ডিবি পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। যদিও পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

এছাড়া বগুড়ার হাটশেরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহনূর আলম শান্ত কারাবন্দি অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের সময় মারধর এবং পরে কারাগারে যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে। একইভাবে ঢাকার মতিঝিল এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সুলতান মিয়া, নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন কবির এবং বগুড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুর ঘটনাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন আটক থাকার কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।

অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কারা কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, অধিকাংশ বন্দিই আগে থেকেই বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তারা বলেন, মৃত্যুর পেছনে কারা কর্তৃপক্ষের অবহেলার কোনো প্রমাণ নেই।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যদিকে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, প্রতিটি ঘটনা নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং কারও রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হয় না। ফলে নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এ সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক এখনো অব্যাহত রয়েছে।

এই শাখার আরও খবর

বিদায়ের সুরে বিষণ্ন দশমী, আগামী শরতে ফেরার অপেক্ষা

আনন্দ, উচ্ছ্বাস, উৎসবের রঙ আর বিদায়ের বিষণ্নতা মিশ্রিত আবহে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর)…

বাংলাদেশিদের মাথাপিছু ঋণ দেড় লাখ টাকার পথে

সরকারের ঋণ বাড়ার বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর শেষে দেশের মাথাপিছু সরকারি ঋণ দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন অনুযায়ী,…

কক্সবাজারে সমুদ্রে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ২

কক্সবাজারের হিমছড়ি সমুদ্রসৈকতে গোসল করতে নেমে তিন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।…

পলিন হ্যানসনকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর তথ্য:রক্ষণশীল জোট গঠনে দূরত্বে কোয়ালিশন ও ওয়ান নেশন

অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে লেবার সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে রক্ষণশীল দলগুলোর ঐক্যের আহ্বান উঠেছে। কিন্তু পলিন হ্যানসন ও অ্যাঙ্গাস টেলরের অবস্থান, নেতৃত্বের প্রশ্ন এবং আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্য…

সৌদি আরবে নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর কূটনৈতিক সংকটে বাংলাদেশ

মক্কায় মসজিদের ভেতরে চুম্বনের অভিযোগে এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে সৌদি আরব। তবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় কিংবা তা কার্যকরের বিষয়ে সৌদি…

শুভ বিজয়া দশমী: অশুভের বিনাশ, সত্য ও মানবতার জয়

শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ অধ্যায় বিজয়া দশমী। আনন্দ, বেদনা, আবেগ ও সম্প্রীতির এক অনন্য মেলবন্ধনে এই দিনটি বাঙালির হৃদয়ে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কয়েক দিনের উৎসব,…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au