তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে গোল্ডেন বুট পাবে এমবাপ্পে?
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। রোববারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আয়োজিত ‘১৭ জুলাই যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তি করেছিল, তা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী ছিল। তিনি বলেন, অনির্বাচিত অবস্থায় এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করা উচিত হয়নি এবং এর দায় বর্তমান সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা সঠিক নয়।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নুরুল হক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া ওই চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহল বিএনপিকে দায়ী করার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবে চুক্তিটি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার এবং সে সময় যাঁদের রাজনৈতিকভাবে সামনে আনা হয়েছিল, তাঁদের সম্মতিতেই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নুরুল হক অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কৃত্রিম জনমত তৈরি এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁর ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য ইতিবাচক নয় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রবণতা থেকে সরে আসতে হবে।
জুলাই সনদ ও রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের অবস্থানকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিদ্যমান জটিলতার সমাধান সংসদীয় কমিটি ও রাজনৈতিক সংলাপের মাধ্যমেই সম্ভব। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংঘাতমুখী রাজনীতি বা হুমকি-ধমকির পরিবেশ তৈরি না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের বিষয়ে নুরুল হক বলেন, অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক দাবি থাকলেও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে আন্দোলনকে উসকে দেওয়া হয়েছে। এতে সুযোগসন্ধানী শক্তি পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার মোকাবিলায় ছাত্রসংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে গোপন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে প্রকাশ্য রাজনৈতিক চর্চা প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে স্বাধীন রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তোলারও আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াত-শিবিরের ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক বলেন, বিভিন্ন আন্দোলনে তাদের অবদান থাকলেও অতীতে তাদের কিছু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত জাতীয়ভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রতিফলন দেখা যায়। তাঁর বিশ্বাস, আগামী পাঁচ বছরে দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পরিচালনায় কার্যকর নেতৃত্ব দিতে পারবেন প্রধানমন্ত্রী।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গে নুরুল হক বলেন, এটি ছিল দলমত-নির্বিশেষে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফল। তবে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে বিদেশি শক্তির প্রভাব ছিল বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু ছাত্রনেতাকে বিদেশি অপশক্তি প্রভাবিত করেছিল এবং আন্দোলনের পরিচিত মুখগুলোকে ব্যবহার করে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনকে কোনো একক রাজনৈতিক বয়ানে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে রাজনৈতিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতেও নতুন সংকট তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন আবদুস সালাম, হাসনাত কাইয়ূম, রাকিবুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, জাহিদ আহসানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au