তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে গোল্ডেন বুট পাবে এমবাপ্পে?
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। রোববারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- বিশ্বখ্যাত মার্কিন বিনিয়োগকারী ও বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের চেয়ারম্যান ওয়ারেন বাফেট দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুদান দেওয়ার পর বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস প্রতিষ্ঠিত গেটস ফাউন্ডেশনে আর অর্থ দান করবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর তিন সন্তান এখন তাঁর সম্পদ সমাজকল্যাণে কীভাবে ব্যয় হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তাই ভবিষ্যতের অনুদান তাঁদের পরিচালিত দাতব্য সংস্থাগুলোর মাধ্যমেই বিতরণ করা হবে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৯৫ বছর বয়সী ওয়ারেন বাফেট বলেন, “আমি আমার তিন সন্তানকে বলেছি, এই সম্পদ এখন তাদের দায়িত্ব। তারা যেন এটি সঠিকভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করে।”
এই মন্তব্য আসে বার্ষিক মধ্যবর্ষের অনুদান ঘোষণার একদিন পর। এবার তিনি প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার দান করলেও, সেখানে গেটস ফাউন্ডেশনের নাম রাখা হয়নি। পরিবর্তে ১ কোটি ২০ লাখ ক্লাস-বি শেয়ার তাঁর সন্তান সুসি বাফেট, হাওয়ার্ড জি. বাফেট এবং পিটার বাফেট পরিচালিত চারটি দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দেওয়া হয়েছে। এগুলো হলো সুসান থম্পসন বাফেট ফাউন্ডেশন, শেরউড ফাউন্ডেশন, হাওয়ার্ড জি. বাফেট ফাউন্ডেশন এবং নোভো ফাউন্ডেশন।
২০০৬ সাল থেকে এ পর্যন্ত ওয়ারেন বাফেট গেটস ফাউন্ডেশনে ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি মূল্যের বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে শেয়ার দান করেছেন। একই সময়ে সন্তানদের পরিচালিত চারটি ফাউন্ডেশনেও ২৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের শেয়ার অনুদান দিয়েছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ওয়ারেন বাফেট জানান, কয়েক সপ্তাহ আগে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু বিল গেটস ওমাহায় তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এই বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে বিল গেটসের যোগাযোগসংক্রান্ত কিছু নথি প্রকাশ করে। এ প্রসঙ্গে বাফেট বলেন, বিল গেটস জীবনে কিছু ভুল করেছেন, তবে মানুষ হিসেবে সবাই কখনো না কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি নিজেও কর্মী নিয়োগ কিংবা বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে ভুল করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
তবে এসব বিতর্ক সত্ত্বেও বিল গেটসের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কোনো অনুশোচনা নেই বলেও জানান ওয়ারেন বাফেট। তিনি বলেন, গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক এবং বিল গেটসের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ছিল অত্যন্ত মূল্যবান।
অন্যদিকে এক বিবৃতিতে বিল গেটস ওয়ারেন বাফেটকে তাঁর “প্রিয় বন্ধু” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাফেটের আর্থিক সহায়তায় গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের কোটি মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পেরেছে। ভবিষ্যতেও তাঁদের বন্ধুত্ব অটুট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিকে ওয়ারেন বাফেট তাঁর উত্তরাধিকার পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হাতে থাকা বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের অবশিষ্ট প্রায় ১৩ শতাংশ মালিকানা ২০৩৪ সালের শেষ নাগাদ তাঁর সন্তানদের মাধ্যমে দাতব্য কাজে বিতরণ করা হবে। আগে পরিকল্পনা ছিল, তাঁর মৃত্যুর ১০ বছরের মধ্যে এই সম্পদ বণ্টন করা হবে। তবে সন্তানদের বয়স এবং সময়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে তিনি সেই সময়সীমা এগিয়ে এনেছেন।
বিশ্বের অন্যতম সফল বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেটের এই সিদ্ধান্ত দাতব্য কর্মকাণ্ড ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে তাঁর সম্পদ সমাজের কল্যাণে ব্যবহারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এখন তাঁর পরিবারের নতুন প্রজন্মের হাতেই থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au