তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করলে গোল্ডেন বুট পাবে এমবাপ্পে?
মেলবোর্ন, ১৯ জুলাই- বিশ্বকাপের পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র দুটি ম্যাচ। রোববারের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। তার আগে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে…
মেলবোর্ন, ১৮ জুলাই- ঝিনাইদহ জেলা শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর ও ভাস্কর্য অপসারণের কাজ চললেও এ উদ্যোগের দায়িত্ব বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি সংস্থা। কয়েক দিন ধরে প্রকাশ্যে ভাঙার কাজ চললেও কে বা কোন প্রতিষ্ঠানের নির্দেশে এটি অপসারণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা চত্বর ও ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ফেলছেন। তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করে পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান বলেন, কেন ভাস্কর্যটি অপসারণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
অন্যদিকে জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন জানান, জেলা প্রশাসন এই ভাস্কর্য অপসারণের কাজ করছে না। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের আগেই ভাস্কর্যটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলে জানান। তাঁর ধারণা, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পৌরসভা সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, জেলা পুলিশ লাইনসের সামনে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি প্রতিকৃতি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঝিনাইদহের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানও জানান, কে বা কারা ভাস্কর্য ও চত্বর অপসারণ করছে, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এম মাজিদ বলেন, ভাস্কর্যটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ছিল এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের দুই দফা ভাঙচুরের শিকার হয়। পাশাপাশি এটি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছিল বলে বিভিন্ন সভায় স্থাপনাটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে কে বর্তমানে ভাঙার কাজ করছে, সেটি তাঁরও জানা নেই।
এদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ জানান, ঝিনাইদহ শহরের চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন গোলচত্বরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের পূর্ণাঙ্গ ভাস্কর্য নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
২০১৯ সালে ঝিনাইদহ পৌরসভা বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতা ও ১০ ফুট প্রস্থের একটি ভাস্কর্য নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। তবে নানা কারণে প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হয়নি। দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকায় চত্বরটি আগাছায় ঢেকে যায় এবং ভাস্কর্যের কাঠামোও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুল হক বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা শহরের প্রবেশমুখে স্থানীয় ইতিহাস ও গৌরবের প্রতীক হিসেবে স্মৃতিস্তম্ভ বা ভাস্কর্য রয়েছে। ঝিনাইদহের প্রবেশপথে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে নির্মিত এই চত্বর ছিল জেলার গর্ব। কিন্তু কোনো ঘোষণা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এটি অপসারণ করায় মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর বলেন, তিনি বর্তমানে সংসদ অধিবেশনে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান শুধু ঝিনাইদহের নয়, সমগ্র বাংলাদেশের গর্ব। তাঁর আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জেলার প্রবেশমুখে তাঁর নামে একটি স্মৃতিচিহ্ন থাকা প্রয়োজন। এমন একটি স্থাপনা অপসারণের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত ছিল বলেও তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মুক্তিযুদ্ধে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সিপাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের ধলাই সীমান্তে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে তিনি শহীদ হন। অসামান্য সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে দেশের সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ প্রদান করা হয়। তিনি বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের অন্যতম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au