চট্টগ্রামে বন্যায় ১ লাখ ৬১ হাজার পশু ও হাঁস-মুরগির মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় সাম্প্রতিক বন্যায় প্রাণিসম্পদ খাতে মোট ৭৭ কোটি ১৫ লাখ ২ হাজার ২৪০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভয়াবহ এ…
মেলবোর্ন, ২৫ জুলাই: ইউরোপ জুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ফ্রান্সে উপকূলীয় পর্যটন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি একাধিক দাবানল একীভূত হওয়ায় প্রথমবারের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্পেন। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আটলান্টিক উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র ক্যাপ ফেরে (Cap Ferret) উপদ্বীপ সম্পূর্ণ খালি করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গাড়ি ও নৌকায় করে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যাচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার শুরু হওয়া দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। গিরন্দ অঞ্চলের প্রশাসন আগুনকে “এক্সএক্সএল দাবানল” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজ জানান, ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ পর্যন্ত ৫৩টি বাড়ি ও একটি ক্যাম্পসাইট আগুনে ধ্বংস হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণ কর্মীরা প্রায় দুই হাজার বাড়ি রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছেন। এদিকে ফ্রান্সের বিসকারোস ও প্যারেন্টিস-অঁ-বোর্ন এলাকায় আরেকটি বড় দাবানলের কারণে আরও ২৩ হাজারের বেশি মানুষকে বাড়িঘর, ক্যাম্পসাইট, বৃদ্ধাশ্রম ও গ্রীষ্মকালীন শিবির থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের আশঙ্কা, প্রবল বাতাস ও ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং শুক্রবারের মধ্যেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার সম্ভাবনা নেই। এ পর্যন্ত সেখানে ১০৫টি বাড়ি ও ভবন আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনে মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে ভিলা দেল প্রাদো ও সান মার্তিন দে ভালদেইগলেসিয়াস এলাকায় ছড়িয়ে পড়া তিনটি দাবানলের মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে একীভূত হয়েছে এবং তৃতীয়টিও সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মুখে রয়েছে।
পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্পেন সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। মাদ্রিদ অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট ইসাবেল দিয়াজ আয়ুসো এটিকে অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল বলে উল্লেখ করেছেন।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ পরিস্থিতিকে “অত্যন্ত সংকটজনক” বলে বর্ণনা করে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও বলেছেন, বিশেষ করে গিরন্দ অঞ্চলে দাবানল পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ফ্রান্সে তিনটি অগ্নি নির্বাপণ বিমান ও দুটি হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। পাশাপাশি স্পেনেও আরও চারটি অগ্নিনির্বাপণ বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্কের চিত্র। গভীর রাতে জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর অনেকেই তড়িঘড়ি করে বাড়ি, তাঁবু ও ব্যক্তিগত মালপত্র ফেলে নিরাপদ স্থানে চলে যান। অনেকের ভাষ্য, শত শত দমকলকর্মীর প্রাণপণ চেষ্টার পরও আগুনের তীব্রতা ছিল নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au