১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরছেন তসলিমা নাসরিন
মেলবোর্ন, ২৭ জুলাই: প্রায় ১৯ বছর পর আগামী ১ আগস্ট কলকাতায় ফিরছেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে আবারও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,…
মেলবোর্ন, ২৬ জুলাই: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে স্বাগত জানালেও শুধু একজন মন্ত্রীর বিদায়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট দূর হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জলবায়ু কর্মী ও শিক্ষা সংস্কারক সোনম ওয়াংচুক। তিনি বলেছেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য সরকার ও নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ভারতে নিট (ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ৪৯ দিনের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সরকারের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর পর কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। তবে আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক সোনম ওয়াংচুক স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আন্দোলনের উদ্দেশ্য শুধু একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ নিশ্চিত করা ছিল না, বরং পুরো শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনা।
তিনি বলেন, “শুধু পদত্যাগে জাতি গঠন সম্ভব নয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। ভবিষ্যতে যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস বা এমন অন্যায় আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।” তিনি সবাইকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই আন্দোলন গণতন্ত্র, জবাবদিহি ও ন্যায়ের পক্ষে জনগণের শক্তির প্রতীক।
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্রীয় সরকার পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজন করলেও আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, এতে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মানসিক, শিক্ষাগত ও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে পরীক্ষা বাতিলের পর অন্তত ১২ জন শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নানা ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে মন্ত্রীদের পদত্যাগের নজির রয়েছে। ১৯৫৬ সালে আরিয়ালুর ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ১৯৯৯ সালে গাইসাল ট্রেন দুর্ঘটনার পর রেলমন্ত্রী নীতিশ কুমার, ১৯৯৩ সালে বিমান দুর্ঘটনার পর মাধবরাও সিন্ধিয়া, ১৯৫৮ সালে মুন্ধরা কেলেঙ্কারিতে টি. টি. কৃষ্ণমাচারী, ১৯৬২ সালে ভারত-চীন যুদ্ধের পর ভি. কে. কৃষ্ণ মেনন এবং ২০১৮ সালে যৌন হয়রানির অভিযোগে এম. জে. আকবর পদত্যাগ করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকেও রাজনৈতিক জবাবদিহির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড, ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নতুন মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে।
সোনম ওয়াংচুকের মতে, একজন মন্ত্রীর বিদায়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও পরীক্ষা পরিচালনায় প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়ানো সম্ভব হবে। তিনি বলেন, এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের দাবির প্রতি রাষ্ট্রের জবাবদিহি নিশ্চিত হওয়া।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au