জাপানে ৭.১ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ জুলাই: জাপানের কুমামোটো প্রিফেকচারে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮ জনে পৌঁছেছে। মঙ্গলবারের এই ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে, হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ ও পানির সংকটে দুর্ভোগে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দিন-রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার জাপানের মুখ্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানান, কাশিমা শহরের একটি বড় শপিং মল ধসে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইয়াতসুশিরো শহরে নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানা ধসে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু সরাসরি ভূমিকম্পের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনো তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মিনোরু কিহারা বলেন, উদ্ধার অভিযান এখন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং জাপান সেলফ-ডিফেন্স ফোর্স যৌথভাবে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিটি মুহূর্তই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তত কমে আসছে।
কুমামোটো প্রিফেকচার সরকার জানিয়েছে, অন্তত ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন। কতসংখ্যক বাড়িঘর ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের পর জাপানের ভূকম্পন তীব্রতা সূচক শিন্দো স্কেলে সর্বোচ্চ শিন্দো-৭ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। এর ফলে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৪০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৩ হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন এবং ৭৪ হাজার ৮০০ পরিবার পানিবিহীন অবস্থায় ছিল। এতে তীব্র গরমের মধ্যে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে গেছে।
জাপানের আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকতে পারে। এ কারণে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে খাবার ও পানির জন্য দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত পানি পান, টুপি ব্যবহার এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। অনেক মানুষ গরম থেকে বাঁচতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যক্তিগত গাড়িতে অবস্থান নিচ্ছেন। তবে চিকিৎসকেরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে থাকলে ইকোনমি ক্লাস সিনড্রোম বা রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত হাঁটাচলা, পা নাড়ানো এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করে বাস্তুচ্যুত মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া দুর্গতদের তীব্র গরম থেকে স্বস্তি দিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ৩ হাজার ৩০০টি বহনযোগ্য এয়ার কন্ডিশনার পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য জরুরি সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করছে।