জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে (ডকুমেন্টারি) কেন্দ্র করে চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ আগষ্ট: রাজধানীর আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র (চীন-মৈত্রী) আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) ঘিরে হট্টগোল ও সাময়িক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যচিত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপস্থিত ছাত্র-জনতার একাংশ এবং কয়েকজন শহীদ পরিবারের সদস্য।
বুধবার (৫ আগস্ট) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। হট্টগোল শুরু হলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা দ্রুত মঞ্চ ও প্রেক্ষাগৃহের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুষ্ঠান পরিচালকের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উদ্যোগ নেন।
কী নিয়ে আপত্তি?
অনুষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গণঅভ্যুত্থানের ওপর নির্মিত তথ্যচিত্রে আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ সম্পূর্ণভাবে বাদ পড়েছে বলে দাবি করেন উপস্থিত কয়েকজন। এ নিয়ে তারা প্রতিবাদ জানালে অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা
পরিস্থিতি শান্ত করতে উপস্থাপক বারবার উপস্থিত অতিথিদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। একপর্যায়ে মঞ্চে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, যারা এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে চান, তারা যেন মঞ্চে এসে মতামত দেন এবং সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।
একই সময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। মঞ্চে উঠে আখতার হোসেন বলেন, তথ্যচিত্রে যে অসংগতির অভিযোগ উঠেছে, তা তারা লক্ষ্য করেছেন এবং বিষয়টি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের অনুপস্থিতি নিয়ে তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইবেন বলেও জানান। একই সঙ্গে তিনি শহীদ পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
মন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান সবার এবং তথ্যচিত্রটি দেখে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে সরকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাসহ যেসব অসংগতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।