কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ২৮১।ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৪ আগষ্ট: কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৯৭১ জন আহত হয়েছেন। এখনও ৩৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা হতাহতের সর্বশেষ এই তথ্য জানিয়েছেন।
ভূমিকম্পের পর দেশটির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ জীবিত আটকে আছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে শত শত উদ্ধারকর্মী, সেনাসদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
কলম্বিয়ার দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের মহাপরিচালক ডেভিড সান্তিয়াগো তামায়ো জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১২ হাজারের বেশি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। আরও ৭৪ হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ১৭০টির বেশি ভবন ধসে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি পথচারী সেতু, ২০টি সড়ক সেতু এবং ২০০টির বেশি সড়ক।
ভূমিকম্পের প্রভাবে দেশটির পাঁচটি বিমানবন্দর এবং ৪৪টি পানি সরবরাহব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ, মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সেবায়ও বিঘ্ন ঘটেছে। এতে দুর্গত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চোকো অঞ্চলের পেরেইরা এবং ভায়ো দেল কাউকা অঞ্চলের কালি শহর। বুধবার পেরেইরায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে ছিলেন।
কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো এদার জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শহরটির দক্ষিণ অংশে একটি ভবন ধসে পড়ার পর সেখানে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে কলম্বিয়ার সেনাবাহিনীর তৃতীয় ব্রিগেডের সদস্যরাও অংশ নিচ্ছেন। তারা প্রশিক্ষিত কুকুর, তাপ শনাক্ত করতে সক্ষম ড্রোন এবং বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত মানুষের অবস্থান শনাক্ত করতে প্রযুক্তির পাশাপাশি শারীরিক অনুসন্ধানও চালানো হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তাও পৌঁছাতে শুরু করেছে। স্থানীয় উদ্ধারকর্মীদের সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪০ সদস্যের একটি নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার দল কলম্বিয়ায় পাঠিয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে স্থানীয় বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছেন।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অত্যন্ত বড়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা, জরুরি ত্রাণ এবং ধ্বংস হওয়া বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে বড় ধরনের সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার সান হোসে দেল পালমারের প্রায় ৩ মাইল পূর্বে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশটিতে রেকর্ড হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী।
ভূমিকম্পটির কম্পন শুধু কলম্বিয়াতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। দুর্গত এলাকাগুলোতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চলছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।