সাজেকে সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে শতাধিক আদিবাসী আহত
রাঙামাটির সাজেকে আন্দোলনকারীদের ওপর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লাঠিচার্জে শতাধিক আদিবাসী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠন এশিয়ান সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস (এসিএইচআর)। শুক্রবার প্রকাশিত এক…
মেলবোর্ন, ১৫ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মরদেহ দ্রুত সৎকার এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়া দাহ করার অভিযোগে সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে নির্মল ঘোষকে আট দিন এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে ৩১ বছর বয়সী ওই নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। পরদিন সকালে হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ ও আন্দোলন শুরু হয়। নিহত চিকিৎসককে পরবর্তী সময়ে ‘অভয়া’ নামে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নতুন পর্যায়ে মূল অভিযোগ উঠেছে, নিহত চিকিৎসকের মরদেহ সৎকারের ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়াই দ্রুত দাহ করা হয়েছিল। এ অভিযোগের ভিত্তিতে বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট মামলা দায়ের করে। অভিযোগের তদন্তে সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষ ও সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম উঠে আসে।
মামলা হওয়ার পর নির্মল ঘোষ আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানায়। পরে তিনি ওডিশার বালেশ্বরের একটি হোটেলে অবস্থান করছেন বলে তথ্য পায় তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার কলকাতা ও ওডিশা পুলিশের যৌথ অভিযানে সেখান থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে কলকাতায় এনে শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর মহকুমা আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাঁকে আট দিনের পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, একই মামলার অপর অভিযুক্ত পানিহাটি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে বৃহস্পতিবার কলকাতার নিউ টাউনের চিনার পার্ক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁকেও বারাকপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই নারী চিকিৎসকের মরদেহ সৎকারের প্রক্রিয়ায় নির্মল ঘোষসহ একাধিক জনপ্রতিনিধির ভূমিকা ছিল। পুলিশ এ ঘটনায় সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এবং সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
এর আগে গত ১৩ জুলাই নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সংঘর্ষ এবং এক কোটি টাকার লটারি বিজয়ীর সঙ্গে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার ওই মামলাতেও সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে থানায় নেওয়ার পর আদালতে হাজির করতে নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজনা তৈরি হয়। একদল বিক্ষোভকারী তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ও ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের চোখে আঘাত লাগে বলে জানা গেছে। পরে খড়দহ থানার সামনেও বিক্ষোভ করেন স্থানীয়দের একটি অংশ।
আরজি করের নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় এর আগে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত সাজা দিয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত ছিল কি না এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ও তদন্ত চলেছে।
মরদেহ সৎকারে অনিয়মের অভিযোগে নতুন করে সাবেক জনপ্রতিনিধিদের গ্রেপ্তার সেই তদন্তকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। পুলিশ এখন নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মরদেহ সৎকারের সিদ্ধান্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং পরিবারের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au