হাইতিতে গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭, নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে কেন্সকফ এলাকায় রাতভর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন।…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোথায় এবং কত টাকা ঘুষ চাওয়া হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে আনতে চালু হওয়া অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ঘুষ.সাইটে’ মাত্র তিন দিনে ১ হাজার ৮৫৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগে ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
গত ২১ আগস্ট চালু হওয়া ‘ঘুষ.সাইট’ প্ল্যাটফর্মটিতে নাগরিকেরা নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ চাওয়ার অভিজ্ঞতা জানাতে পারছেন। উদ্যোক্তাদের দাবি, এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সেবা খাতে ঘুষ চাওয়ার প্রবণতার একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশি দুই বন্ধু সাইফ কবির ও শাহেদ শরিফ বিদেশের একটি ওয়েবসাইট থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছেন। তারা জানিয়েছেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ঘুষের অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি জায়গায় তুলে আনতেই এই উদ্যোগ। তবে ‘ঘুষ.সাইট’ কোনো তদন্ত সংস্থা বা দুর্নীতি দমন কমিশনের বিকল্প নয়। ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিটি অভিযোগের সঙ্গে ‘আনভেরিফায়েড’ বা যাচাইহীন উল্লেখ থাকে।
প্ল্যাটফর্মটিতে অভিযোগ জানাতে কোনো অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন হয় না। দুই মিনিটেরও কম সময়ে অভিযোগ জমা দেওয়া যায়। অভিযোগের সময় সরকারি দপ্তরের নাম, সেবার ধরন, এলাকা বা অঞ্চল, ঘুষ হিসেবে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এবং শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে, এসব তথ্য দিতে হয়।
এ ছাড়া ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নাম, পদবি কিংবা ফোন নম্বর প্রকাশ করার সুযোগ রাখা হয়নি। উদ্যোক্তাদের মতে, নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করার পরিবর্তে কোন সরকারি সেবা বা খাতে অনিয়ম বেশি হচ্ছে, সেটি তুলে ধরাই এই প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য।
জমা দেওয়া অভিযোগ সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় না। অভিযোগগুলো প্রথমে মডারেশনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সরিয়ে ফেলার পাশাপাশি আক্রমণাত্মক, অস্পষ্ট বা ওয়েবসাইটের নীতিমালা লঙ্ঘন করে এমন অভিযোগও বাদ দেওয়া হয়।
উদ্যোক্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সংখ্যায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। সেখানে ৮৬৯টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এরপর চট্টগ্রামে ৪৩৮টি, রাজশাহীতে ১২২টি, খুলনায় ১১৫টি, রংপুরে ৯৮টি, সিলেটে ৭৯টি, ময়মনসিংহে ৭১টি এবং বরিশালে ৬৪টি অভিযোগ জমা পড়েছে।
অভিযোগকারীদের মধ্যে ১৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা ঘুষ দিতে অস্বীকার করেছেন। অর্থাৎ, ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতাও অনেকে প্ল্যাটফর্মটিতে তুলে ধরেছেন।
দুই উদ্যোক্তা কোনো এনজিও বা প্রাতিষ্ঠানিক অনুদান ছাড়াই নিজেদের অর্থে ওয়েবসাইটটি পরিচালনা করছেন। তবে সাধারণ মানুষের জন্য স্বেচ্ছা অনুদানের সুযোগ রাখা হয়েছে।
উদ্যোক্তা সাইফ কবির বলেন, তাদের কাছে সাফল্যের মাপকাঠি শুধু ওয়েবসাইটের দর্শনার্থীর সংখ্যা নয়। কোনো নাগরিক সরকারি সেবা নেওয়ার আগে অন্য মানুষের অভিজ্ঞতা দেখে কোথায় ঘুষ চাওয়া হচ্ছে তা বুঝতে পারেন এবং অন্যায্য ঘুষের দাবি প্রত্যাখ্যান করতে পারেন, সেটিই তাদের উদ্যোগের বড় সাফল্য হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au