হাইতিতে গ্যাংয়ের হামলায় নিহত ৪৭, নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- হাইতির রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের কাছে কেন্সকফ এলাকায় রাতভর সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ২২ জন আহত হয়েছেন।…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সোমবার তিনি বলেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়ায় কিংবা সীমা ছাড়িয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ওয়াশিংটন প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টিও উড়িয়ে দেননি তিনি।
উইসকনসিনের ওশকশ সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পিট হেগসেথ। সেখানে তিনি প্রতিরক্ষা শিল্পের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাদের যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
হেগসেথ বলেন, বর্তমানে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তার দাবি, এই চাপ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়ালে পরিস্থিতি অনুযায়ী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ।
পিট হেগসেথের দাবি, সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের নৌবাহিনী, নজরদারি ব্যবস্থা, রাডার, লক্ষ্য শনাক্ত করার সক্ষমতা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থায় বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তার মতে, ইরানের হাতে এখনো কিছু সামরিক সক্ষমতা থাকলেও আগের তুলনায় দেশটির সক্ষমতা অনেক কমে গেছে।
তিনি আরও জানান, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। হেগসেথের মতে, অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানো হলে ইরানের সামনে আলোচনায় বসা ছাড়া অন্য কোনো পথ থাকবে না। আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও কথা বলতে হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সরকার ও প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন। তিনি ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের কথা স্বীকার করলেও দেশের মানুষের ঐক্য ধরে রেখে সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এর মধ্যেই সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। এই অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং দেশটির সরকারকে সহায়তা করা অর্থের উৎস বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্কট বেসেন্ট বলেন, ইরানের সামনে এখন দুটি পথ রয়েছে। একটি হলো বিশ্ব অর্থনীতি থেকে প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে থাকার মতো অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। অন্যটি হলো আন্তর্জাতিক অর্থনীতির সঙ্গে আবার যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর মাধ্যমে ইরানের সরকারের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগগুলো আরও সীমিত করার চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au