মরদেহ উদ্ধার। প্রতিকী ছবি
গাজীপুরের কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়া উপজেলা থেকে এক দিনে পৃথক ঘটনায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে একজন যুবককে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে কাপাসিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর এক শিশুর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কালিয়াকৈরে জঙ্গল থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ও দুপুরে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল ১১টার দিকে কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর দক্ষিণপাড়া বলখেলা বাজার এলাকায় ঘাস কাটা নিয়ে নিলয় সরকার নামে এক যুবকের সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই রাসেলের কথা-কাটাকাটি হয়। নিলয় স্থানীয় মনির সরকারের ছেলে।
পরে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে আবদুর রশিদ এতিমখানার কাছে নিলয়ের ওপর হামলা চালান রাসেল। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় কোপ দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা নিলয়কে উদ্ধার করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহম্মেদ জানান, জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত রাসেল পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।
এদিকে, কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামে নিখোঁজের তিন দিন পর জাহিদ হাসান নামে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে নদের একটি ঘাটে স্থানীয়রা পানিতে মরদেহটি ভাসতে দেখেন। পরে তাঁরা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
জাহিদ হাসান ওই গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিন দিন আগে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাঁর খোঁজ করছিলেন। পরে নদের ঘাটে ভাসমান অবস্থায় তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে, কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার ওসি (অপারেশন) রবিউল ইসলাম জানান, জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা মরদেহটি বেশ কিছুটা পচে গিয়েছিল। নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাঁর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
একই দিনে গাজীপুরের দুই উপজেলায় তিনটি পৃথক ঘটনায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।