রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, ময়নাতদন্তের তথ্য এবং বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের মধ্যে অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হত্যাকাণ্ডের সময় ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পরিবর্তন, বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার রহস্য, হামলাকারীর সংখ্যা, নিহত এক নারীর মুখের পরিবর্তনের কারণ, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং আলামত নষ্ট বা দূষিত হওয়ার মতো একাধিক বিষয় এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, চার সদস্যের একটি হিন্দু পরিবারকে হত্যার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল। এটি কি নিছক কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ, ইয়াবা-সংক্রান্ত ঘটনা কিংবা ডাকাতির ঘটনা, নাকি এর পেছনে আরও পরিকল্পিত কোনো কারণ ছিল, তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসা কোনো প্রমাণে কোনো জঙ্গি বা সন্ত্রাসী সংগঠনের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের ধরন, সময় নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের পরিবর্তন এবং ঘটনাস্থলের বিভিন্ন প্রশ্নের কারণে শুরু থেকেই কোনো সংঘবদ্ধ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর পরিকল্পিত হামলার সম্ভাবনাটি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চারজন মানুষ একই বাড়ির ভেতরে নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী।
ঘটনাটিতে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, ছাদ দিয়ে বাড়িতে প্রবেশ, হত্যার পরও হামলাকারীদের কিছু সময় ঘটনাস্থলে থাকার অভিযোগ এবং শারীরিক আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে এটিকে কেবল সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখার আগে প্রতিটি সম্ভাব্য দিক খতিয়ে দেখা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।
পুলিশের বয়ান কেন বদলাল
হত্যাকাণ্ডের সময় ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তী পুলিশি বর্ণনায় বলা হয়, ভোরের দিকে অভিযুক্তরা বাড়ির ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিলেন। এ সময় গণপতি চক্রবর্তী সকালে হাঁটতে ছাদে উঠে তাঁদের দেখতে পান। এরপর তাঁকে হত্যা করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে পরিবারের অন্য সদস্যদের হত্যা করা হয়।
কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ঘটনাটি যদি এভাবেই ঘটে থাকে, তাহলে পুলিশ প্রথম দিকে ভিন্ন সময় ও ভিন্ন ঘটনাক্রমের কথা কেন জানিয়েছিল?
আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, পুলিশের প্রথম বক্তব্য কি ভুল ছিল, নাকি পরে অভিযুক্তদের কথিত জবানবন্দির ভিত্তিতে নতুন করে ঘটনাক্রম তৈরি করা হয়েছে?
একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আসামির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি একমাত্র ভিত্তি হতে পারে না। ঘটনাস্থলের আলামত, মুঠোফোনের তথ্য, সিসিটিভি, ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণের সঙ্গে সেই বক্তব্যের মিল থাকা প্রয়োজন।
ভোর ৫টা ৫০ মিনিটের ফেসবুক বার্তা
হত্যাকাণ্ডের সময় নির্ধারণে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে নিহত আগামী চক্রবর্তীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোর ৫টা ৫০ মিনিটে আগামী তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে ফেসবুক বা মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করেছিলেন বলে একটি স্ক্রিনশট সামনে এসেছে।
স্ক্রিনশটটি যদি সত্যি হয় এবং ওই সময় আগামী নিজেই তাঁর মুঠোফোন ও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে এটি পুলিশের নির্ধারিত সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
তবে অন্য একটি সম্ভাবনাও তদন্তে যাচাই করা প্রয়োজন। ওই সময় কি অন্য কেউ আগামী চক্রবর্তীর মুঠোফোন ব্যবহার করেছিলেন?
এ জন্য মুঠোফোনের প্রযুক্তিগত তথ্য, অ্যাকাউন্টের লগ, বার্তা পাঠানোর সময়, ব্যবহৃত যন্ত্রের তথ্য এবং অন্যান্য ডিজিটাল আলামত পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে এসব তথ্য ময়নাতদন্তে পাওয়া মৃত্যুর সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

রংপুরে একসঙ্গে হত্যার শিকার হয়েছেন এক পরিবারের চারজন। গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর পারিবারিক ছবিটি এখন শুধুই স্মৃতিছবি: সংগৃহীত
কোথা থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল?
হত্যাকাণ্ডের আগে বা সময় বাড়িটির বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল বলে পুলিশের বক্তব্যে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মিটারের কাছে তার কেটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
কিন্তু ঘটনাস্থলসংক্রান্ত অন্য তথ্য থেকে এমন প্রশ্ন উঠেছে যে, সংযোগটি বৈদ্যুতিক খুঁটির দিক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল কি না।
যদি খুঁটির কাছ থেকে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রশ্ন উঠছে, সেখানে কে গিয়েছিল, কখন গিয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে গিয়েছিল।
মিটারের কাছে তার কাটার কথা পুলিশ কেন বলেছে, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এটি নিছক তথ্যগত ভুল হতে পারে। আবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার স্থান থেকে হামলাকারীদের গতিবিধি সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
তাই সংশ্লিষ্ট তারের কাটার দাগ, ঘটনাস্থলের ছবি, বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
আগামী চক্রবর্তীর মুখে পোড়া দাগ, নাকি পচনের প্রভাব?
নিহত আগামী চক্রবর্তীর মুখের অবস্থা নিয়েও দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যার কথা সামনে এসেছে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল বা সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর মুখ পোড়া বা ঝলসে যাওয়ার মতো দেখাচ্ছিল বলে বর্ণনা থাকার কথা বলা হয়েছে। পরে ফরেনসিক ব্যাখ্যায় মুখের পরিবর্তনকে মরদেহ পচনের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে মুখ পোড়া বলে মনে হওয়ার কারণ কী ছিল? পরে কেন সেটিকে পচনের কারণে হওয়া পরিবর্তন হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলো?
এ বিষয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং মরদেহের ছবি বা অন্যান্য ফরেনসিক নথি পাশাপাশি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
দুই নারীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য
চার নিহতের মধ্যে দুই নারীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল কি না, তা নিয়েও ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে।
মরদেহ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত একজন ব্যক্তি শরীরে যৌন নিপীড়নের আলামত থাকার কথা জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং পরীক্ষিত নমুনায় শুক্রাণুও শনাক্ত হয়নি।
এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ওই ব্যক্তি ঠিক কোন আলামতকে যৌন নিপীড়নের চিহ্ন হিসেবে দেখেছিলেন।
যদি কোনো নমুনা সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কী পরীক্ষা করা হয়েছে এবং পরীক্ষাগারে কী ফল পাওয়া গেছে, তা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
মরদেহ হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় পোশাক ও শরীরের অবস্থা কেমন ছিল, সেটিও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
পুলিশ পাহারায় ঘটনাস্থলে পানি পড়ল কীভাবে?
ঘটনাস্থল সংরক্ষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ পাহারায় থাকা অবস্থায় বাড়ির ছাদে পানি পড়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে কখন পানি পড়েছিল, সে সময় সেখানে কারা ছিলেন, ছাদের কোন কোন অংশ ভিজেছিল এবং এর ফলে কোনো আলামত নষ্ট বা ধুয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল কি না, তা তদন্তে দেখা প্রয়োজন।
একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে রক্ত, ডিএনএ, পায়ের ছাপ, আঙুলের ছাপ কিংবা অন্যান্য ক্ষুদ্র আলামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেগুলো সংগ্রহের আগে কোনো ধরনের পানি পড়লে আলামত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তাই বিষয়টি দুর্ঘটনা হলেও এর ফরেনসিক প্রভাব ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা জরুরি।
প্রকৃত হত্যার উদ্দেশ্য কী?
হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ডাকাতি, ইয়াবা সেবন এবং জমি বা সামাজিক বিরোধ।
কিন্তু চারজনকে কেন হত্যা করা হলো, সেটিই তদন্তের সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্ন।
কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কি স্বাধীন আলামত ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, নাকি তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণ সামনে এসেছে?
আসামির জবানবন্দি বা বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কিন্তু একটি জটিল হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর শুধু আসামির বক্তব্য দিয়ে পাওয়া সম্ভব নয়।
স্বাধীন ও বৈজ্ঞানিক আলামত কোথায়?
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো এখন স্বাধীন ফরেনসিক প্রমাণকে ঘিরে।
ঘটনাস্থল থেকে ডিএনএ আলামত কী পাওয়া গেছে? আঙুলের ছাপ কি পাওয়া গেছে? বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজে কী দেখা গেছে? নিহতদের মুঠোফোনের অবস্থান বা ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্য কী বলছে? ঘটনাস্থলের শারীরিক আলামত আসামিদের বক্তব্যের সঙ্গে মেলে কি না?
আসামিদের পোশাক বা শরীরে নিহতদের ডিএনএ কিংবা অন্য কোনো বৈজ্ঞানিক আলামত পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আবার পুলিশের দাবি অনুযায়ী চারজনের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়ে থাকলে অভিযুক্তদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।
মূল প্রশ্ন একটাই, আসামিদের কথিত জবানবন্দি যদি সত্যি হয়, তাহলে স্বাধীন ফরেনসিক ও ডিজিটাল আলামতও কি একই ঘটনাক্রমের দিকে ইঙ্গিত করছে?
ঘটনাস্থল বনাম পুলিশের বর্ণনা
পুলিশের তৈরি ঘটনাক্রমের প্রতিটি ধাপকে ঘটনাস্থলের বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
হামলাকারীরা কীভাবে ছাদে উঠেছিল, গণপতি চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁদের কীভাবে দেখা হয়েছিল, প্রথম হত্যাকাণ্ড কীভাবে ঘটে, পরিবারের অন্য সদস্যরা কীভাবে ঘটনাটির মধ্যে জড়িয়ে পড়েন, কখন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং হত্যার পর হামলাকারীরা কোথায় কোথায় গিয়েছিল, এসব বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে পুনর্গঠন করা সম্ভব কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
হত্যার পর তাঁরা বাড়ির ভেতরে অবস্থান করেছিলেন কি না, করলেও কতক্ষণ ছিলেন, কীভাবে বের হয়ে গিয়েছিলেন, সেসব তথ্যও ঘটনাস্থলের আলামতের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
পুলিশের বর্ণনা অসম্ভব কি না, সেটি একমাত্র প্রশ্ন নয়। বরং প্রশ্ন হলো, ঘটনাস্থল ও বৈজ্ঞানিক আলামত কি স্বাধীনভাবে পুলিশের বর্ণনাকে সমর্থন করছে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তদন্ত কি সব সম্ভাবনা খতিয়ে দেখেছে?
এই হত্যাকাণ্ডে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলাই মূল বিষয় নয়। বরং চার সদস্যের একটি হিন্দু পরিবারের হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণ ও ঘটনাক্রম যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে কি না, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মৃত্যুর সময় নিয়ে যদি প্রশ্ন থাকে, পুলিশের বক্তব্য যদি পরিবর্তিত হয়ে থাকে, বিদ্যুৎ-সংযোগ কোথা থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল তা যদি অস্পষ্ট থাকে, নিহত এক নারীর মুখের পরিবর্তন নিয়ে যদি দুটি ব্যাখ্যা থাকে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে যদি পরস্পরবিরোধী বক্তব্য থাকে এবং আলামত নষ্ট বা দূষিত হওয়ার অভিযোগ ওঠে, তাহলে শুরুতেই এটিকে শুধু ইয়াবা-সংক্রান্ত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্ত ধরে নেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিশেষ করে কোনো সংঘবদ্ধ বা উগ্রপন্থী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছিল কি না, সেটি সত্যিই তদন্ত করে বাদ দেওয়া হয়েছে, নাকি শুরুতেই একটি নির্দিষ্ট বয়ান গ্রহণ করে তদন্তকে সেই দিকেই এগিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
চারজন মানুষ নিহত হয়েছেন। কিন্তু এখনো ঘটনাটির একটি প্রশ্নহীন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য বর্ণনা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
হত্যার সময় নিয়ে প্রশ্ন আছে। ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা বদলেছে। ঘটনাস্থলের আলামত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফরেনসিক ব্যাখ্যার সঙ্গেও ভিন্ন তথ্যের উল্লেখ পাওয়া যাচ্ছে।
তাহলে শেষ পর্যন্ত কোন বর্ণনাটি সত্য?
পুলিশের প্রথম বক্তব্য, পরবর্তী বক্তব্য, নাকি ঘটনাস্থল ও বৈজ্ঞানিক আলামত যে ঘটনাক্রম প্রতিষ্ঠা করে সেটিই সত্য?
এই প্রশ্নগুলোর নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত পুলিশের কোনো একটি বয়ানকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া হলে রংপুরের চার হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের বদলে তা আরও আড়াল হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়।
সূত্রঃ নর্থইস্ট নিউজ