যে ৯ ম্যাচে মেসি করেছেন চার বা তার বেশি গোল
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। বদলেছে ক্লাব, লিগ, সতীর্থ ও ফুটবলের পরিবেশ। কিন্তু বদলায়নি লিওনেল মেসির গোল করার ক্ষমতা। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে…
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া। রোববার (৩০ আগস্ট) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রুশ বাহিনী।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেন রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামো এবং তেল ও জ্বালানি খাতের স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা, অস্ত্র ও অন্যান্য অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাতভর রুশ হামলা অব্যাহত ছিল। রুশ বাহিনীর এই ঘোষণায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শীত মৌসুম সামনে থাকায় জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা হলে দেশটির বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে।
এর আগে শুক্রবার রাতে কিয়েভের পশ্চিমে মিলা এলাকায় একটি অস্ত্র ও গোলাবারুদের গুদামে রুশ ড্রোন হামলার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুদামে থাকা গোলাবারুদে একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। এতে আশপাশের বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। বিস্ফোরণে আশপাশের কয়েক ডজন বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ ড্রোন একটি গোলাবারুদ সংরক্ষণ স্থাপনায় আঘাত হানার পর সেখানে ব্যাপক বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং উদ্ধারকাজে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়।
জেলেনস্কি আরও বলেন, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি গোলাবারুদ সংরক্ষণের নিয়ম নেই। এমন স্থানে কেন বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। যারা এই সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ফৌজদারি তদন্ত শুরু করেছে। দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে। একই ধরনের একটি ঘটনার পর দুই মাসের মধ্যে কিয়েভ অঞ্চলে এটি দ্বিতীয় বড় অস্ত্রগুদাম বিস্ফোরণের ঘটনা।
গত কয়েকদিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রুশ ড্রোন হামলার তীব্রতা বেড়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এসব হামলার লক্ষ্য শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, রাজধানীর অবকাঠামো ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেও ব্যাহত করা।
অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি অবকাঠামো এবং বড় ব্যবসায়িক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। কিয়েভের দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থ ও সরঞ্জাম জোগাতে ভূমিকা রাখে।
রাশিয়া এখন ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় বড় হামলার প্রস্তুতির ঘোষণা দেওয়ায় দুই দেশের পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে শীত মৌসুমে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড ও অন্যান্য জ্বালানি স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ফলে আসন্ন শীত ইউক্রেনের জন্য বিশেষভাবে কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
এদিকে শনিবার রাতেও কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে অন্তত তিনজন আহত এবং কয়েকটি আবাসিক ও প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবরও পাওয়া গেছে।
রাশিয়ার নতুন করে ‘ব্যাপক হামলার’ প্রস্তুতির ঘোষণা এবং ইউক্রেনের পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au