যে ৯ ম্যাচে মেসি করেছেন চার বা তার বেশি গোল
বয়স ৩৯ ছুঁয়েছে। বদলেছে ক্লাব, লিগ, সতীর্থ ও ফুটবলের পরিবেশ। কিন্তু বদলায়নি লিওনেল মেসির গোল করার ক্ষমতা। ইন্টার মায়ামির জার্সিতে মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ম্যাচে…
কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসক ‘অভয়া’র ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর মরদেহ দ্রুত দাহ করার অভিযোগে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, মরদেহ দ্রুত দাহ করতে অস্ত্র দেখিয়ে পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো হয়েছিল। এ ঘটনায় পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে আরও দুই দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ব্যারাকপুর আদালতে মামলাটি উঠলে তদন্তের স্বার্থে নির্মল ঘোষকে আরও দুই দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার আবেদন করে পুলিশ। আদালত আবেদন মঞ্জুর করেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে তোলা হবে।
সরকারি কৌঁসুলি যদুনাথ ঘোষ আদালতে জানান, অভয়ার বাবা গোপন জবানবন্দিতে অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়ের মরদেহ সৎকারের সময় নির্মল ঘোষ অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখিয়েছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেদিন পানিহাটি শ্মশানে অভয়ার মরদেহের আগে আরও দুটি মরদেহ দাহের অপেক্ষায় ছিল। তবে ওই হুমকির কারণে অন্য মরদেহ দুটির আগেই অভয়ার মরদেহ দাহ করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, নির্মল ঘোষসহ তৃণমূলের আরও দুই নেতা অভয়ার বাবা-মাকে মেয়ের মরদেহ শেষবার দেখার পর্যাপ্ত সুযোগ দেননি। প্রচলিত ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ না করেই দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, অভয়ার মরদেহকে ‘ভিআইপি’ মর্যাদায় দ্রুত পানিহাটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। মরদেহের সৎকারে তাড়াহুড়োর পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর আগে অভয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল, দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের সম্ভাবনা নষ্ট করতেই মরদেহ দ্রুত দাহ করা হয়েছিল।
মরদেহ দ্রুত সৎকারের অভিযোগে অভয়ার বাবা নির্মল ঘোষসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। অন্য দুই অভিযুক্ত হলেন পানিহাটি পৌরসভার কাউন্সিলর সোমনাথ দে ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে খড়দহ থানায় মামলা করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট।
এরপর ওডিশা থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং কাউকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো কাজ করতে বাধ্য করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
নির্মল ঘোষের পাশাপাশি সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যদিকে তৃতীয় অভিযুক্ত সোমনাথ দের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।
পুলিশের তদন্তে অভয়ার মরদেহ দাহের সময় পানিহাটি পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কয়েকজন জনপ্রতিনিধির উপস্থিতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দ্রুত সৎকারের ব্যবস্থা করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, পুরো প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক নিয়মে হয়েছিল কি না, পরিবারের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কেন এত দ্রুত মরদেহ দাহ করা হয়েছিল, এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট রাতে কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত অবস্থায় ওই নারী চিকিৎসক ধর্ষণের শিকার হন এবং পরে নিহত হন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়। মূল ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্ত পরে সিবিআইয়ের হাতে যায়।
তবে মরদেহের সৎকার নিয়ে ওঠা অভিযোগের একটি অংশ নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও অভয়ার মৃত্যুর দুই বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে মরদেহ দ্রুত দাহের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং এ বিষয়ে নতুন তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তদন্তকারীদের মতে, মূল ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাশাপাশি সৎকারের সময় কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং প্রমাণ নষ্টের কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্মল ঘোষ পানিহাটির সাবেক তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক। বর্তমানে ওই আসনের বিধায়ক অভয়ার মা রত্না দেবনাথ, যিনি বিজেপির হয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে মামলাটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে। তবে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।
এদিকে নির্মল ঘোষ আদালতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। শনিবার আদালতে নেওয়ার সময় তিনি অভয়ার বাবা-মাকে নিয়েও মন্তব্য করেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
পুলিশের হাতে আরও দুই দিনের হেফাজত থাকায় এই সময়ে নির্মল ঘোষকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মরদেহ সৎকারের পুরো প্রক্রিয়া, তাঁর ভূমিকা এবং অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au