পরিকল্পনা করে বাংলা ভাষা বিকৃত করা হয়েছিল: শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গের আগের তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাংলা ভাষার পাঠ্যক্রমে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বাংলা…
ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা থেকে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এ কারণে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রকল্পটি শুরুতে ৪ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পরে প্রথম সংশোধনের সময় ব্যয় বাড়িয়ে ৭ হাজার ৫১৮ কোটি টাকা করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ১৬ হাজার ১৪ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। ফলে মূল অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে প্রায় ১১ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।
এত বড় অঙ্কে ব্যয় বৃদ্ধির কারণ নিয়েই মূলত প্রশ্ন উঠেছে। প্রকল্পের অগ্রগতি কতটা হয়েছে, সেই তুলনায় ব্যয় কেন এতটা বাড়ানো হলো এবং ব্যয় বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা আর্থিক স্বার্থ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ হাজার ৯৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে সায়েদাবাদ প্রকল্পের তুলনায় বেশি পানি শোধনের সক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে গন্ধর্বপুর প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য পাইপলাইনও তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ। এরপরও সেই প্রকল্পের ব্যয় সায়েদাবাদ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধিত ব্যয়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
এ অবস্থায় সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় এত বেশি বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পের কাজ ও অগ্রগতির সঙ্গে ব্যয় বৃদ্ধির সামঞ্জস্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রকল্পটির ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির বিষয়টিও দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।
তবে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততা বা কোনো অনিয়মের বিষয় এখনো প্রমাণিত হয়নি। প্রকল্পের ব্যয় নির্ধারণ ও সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো দুর্নীতি, অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা আর্থিক স্বার্থ জড়িত ছিল কি না, তা অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au