মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহের পেছনে কারণ কি?
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ঘিরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিন দেশের এই প্রতিরক্ষা…
পশ্চিমবঙ্গের আগের তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থা ও বাংলা ভাষার পাঠ্যক্রমে পরিকল্পিতভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বাংলা মাধ্যমের শিক্ষাক্রমে এমন কিছু শব্দ ও বিষয় যুক্ত বা পরিবর্তন করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে শিশুদের মনে বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছিল।
বৃহস্পতিবার কলকাতার গোলপার্ক রামকৃষ্ণ মিশনে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তৃণমূল সরকারের আমলের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এ সময় তিনি দাবি করেন, ওই সময়ের পাঠ্যক্রমে দেশপ্রেম ও রাষ্ট্রবাদী চেতনার জায়গা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।
শুভেন্দু অধিকারী বলেন, একসময় বামপন্থীরা বাংলার প্রচার ও প্রসারে বাধা সৃষ্টি করেছিল। পরবর্তী সময়ে তৃণমূল সরকারের আমলে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, সেখানে রাষ্ট্রবাদ ও দেশপ্রেম হারিয়ে যেতে বসেছিল বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পাঠ্যক্রমে ভাষার পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মা কে আম্মা, আকাশ কে আসমান” করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবেই ভাষার বিকৃতি ঘটানো হয় এবং এমনভাবে পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছিল, যা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে শিশুদের মনে বিভাজন তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে নির্দিষ্ট কোনো পাঠ্যবই, অধ্যায় বা সরকারি নথির উদাহরণ তিনি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নিয়েও তৎকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের বৃত্তি দেওয়া হলেও অন্যান্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের একই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।
পাঠ্যক্রমে ইতিহাসের বিষয়বস্তু নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, পাঠ্যক্রমে টাটাদের ইতিহাস এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতো ব্যক্তিদের প্রসঙ্গ রাখা হয়েছিল, অথচ পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকার ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, সময়মতো পরিবর্তন না এলে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থা বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পার্থক্যহীন হয়ে পড়ত। তাঁর ভাষায়, “সঠিক সময়ে পরিবর্তন এসেছে। সঠিক সময়ে আমরা বেঁচে গিয়েছি।”
ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে একাধিক পরিবর্তন এনেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সরকার প্রথমেই জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণ করেছে। একই সঙ্গে প্রার্থনার সময় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম গাওয়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য ঘিরে অবশ্য শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে সামনে আসতে পারে। কারণ তাঁর উত্থাপিত অভিযোগগুলো মূলত পূর্ববর্তী সরকারের নীতি ও পাঠ্যক্রম নিয়ে রাজনৈতিক মূল্যায়ন। কোন কোন বইয়ে কী ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছিল, কোন সময় তা করা হয়েছিল এবং ধর্মভিত্তিক বৃত্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত সরকারি নীতি কী ছিল, তা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পাঠ্যপুস্তক, সরকারি নির্দেশনা ও শিক্ষা দপ্তরের নথি পর্যালোচনা প্রয়োজন।
সূত্রঃ টিভি নাইন বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au