মোদি-পুতিন বৈঠকে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে আলোচনা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের বিশেষ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের চলমান সংঘাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।
বার্তা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে নৌপথ ও বাণিজ্যিক যোগাযোগে নানা ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, রাশিয়া, ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে নয়াদিল্লি। এরই মধ্যে মোদি ও পুতিনের এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি মোদি ও পুতিনের দ্বিতীয় বৈঠক। নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন শুরুর এক দিন আগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এবারের ব্রিকস সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানসহ সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর বিভিন্ন নেতা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৈঠকে পশ্চিম এশিয়া ও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। এসব সংঘাত সামুদ্রিক বাণিজ্য ও ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলেছে। এ প্রসঙ্গে নরেন্দ্র মোদি বলেন, সংঘাতের সমাধান সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে হওয়া উচিত। শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো প্রচেষ্টায় ভারত সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
জ্বালানি সহযোগিতায় রাশিয়ার ওপর ভারতের নির্ভরতা
জ্বালানি খাতেও ভারত ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাশিয়া বর্তমানে ভারতের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী। ২০২৬ সালে ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ জুলাইয়ে রেকর্ড ৫১ শতাংশে পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন বাড়ার কারণে রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আরও বেড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশাল জনসংখ্যা ও অর্থনীতির প্রয়োজন মেটাতে নিরাপদ, সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমানোর বিভিন্ন চাপের বিরোধিতা করে আসছে নয়াদিল্লি।
ইউক্রেন সংকটের ক্ষেত্রেও ভারত বরাবরই সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। মোদি-পুতিন বৈঠকেও আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
পুতিনকে তামিল গ্রন্থের রুশ অনুবাদ উপহার
বৈঠকের আগে শুক্রবার নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ভারতের প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষায় অনূদিত একটি সংস্করণ উপহার দেন।

পুতিনকে ভারতের প্রাচীন তামিল গ্রন্থ ‘তিরুক্কুরাল’-এর রুশ ভাষায় অনূদিত একটি সংস্করণ উপহার দেন।
বৈঠকের পর দুই নেতা ভারত-রাশিয়া শিল্পমেলাও পরিদর্শন করেন। ওই মেলায় রাশিয়ার প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিমান, মহাকাশ, পারমাণবিক বিজ্ঞান, ভারী প্রকৌশল, খনি ও ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্য
ভারত ও রাশিয়া নিজেদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েছে নয়াদিল্লি ও মস্কো।
জ্বালানি ও প্রতিরক্ষার পাশাপাশি বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং শিল্প সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ রয়েছে। মোদি ও পুতিনের সাম্প্রতিক ধারাবাহিক বৈঠককে সেই সম্পর্ক আরও জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সুত্রঃ রয়টার্স