মোদি ও পুতিনের বৈঠকে কী কথা হলো?
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের বিশেষ ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে…
রংপুর নগরীতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অনুপ কুমার সাহা বলেন, চার খুনের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তারা হাইকোর্ট বিভাগে রিট আবেদন করেছেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং তদন্ত কার্যক্রমের যথাযথ তদারকির জন্য তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন বলেও জানান তিনি।
অনুপ কুমার সাহা বলেন, এ ধরনের বড় কোনো ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত হবে কি না, তা নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তিনি জানান, বাড়িটি পরিদর্শনের জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক ও রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনারের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চারজন আইনজীবীকে ক্রাইম সিনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জন্য পুলিশ কমিশনারের কাছেও অনুরোধ করা হয়। তবে তাদের সে অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ কমিশনার তার এক কর্মকর্তাকে ওপরের তলায় যেতে নিষেধ করেছেন। পাশাপাশি তার মোবাইল নম্বর পুলিশ কমিশনার ব্লক করে দিয়েছেন বলেও দাবি করেন অনুপ কুমার সাহা।
সংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আইন বিষয়ক সম্পাদক অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, চার খুনের ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, তাদের কাছে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। এ কারণে হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন তারা। তার ভাষ্য, তদন্তে যেন পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো সাজানো বা বিভ্রান্তিকর কাহিনি উপস্থাপনের সুযোগ না থাকে, সেটিও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ সময় নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ওই ঘটনার মতো রংপুরের চার খুনের ঘটনাতেও বিচার বিভাগীয় তদন্ত হওয়া উচিত।
তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ ভয়ের কারণে ঘটনার বিষয়ে কথা বলতে পারছেন না। প্রত্যেক মানুষের জীবন, জীবিকা ও নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়া ভট্টাচার্য বলেন, আদালতে দায়ের করা রিট পিটিশনের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছেন। তবে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও ঘটনাস্থলের গুরুত্বপূর্ণ অংশে যেতে পারেননি বলে জানান তিনি।
জয়া ভট্টাচার্য বলেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা হতবাক হয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, গণপতি চক্রবর্তীর পুরো বংশই যেন নির্বংশ হয়ে গেছে।
তিনি তদন্ত কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা উপাত্ত থাকলে তা তদন্ত কর্মকর্তার পাশাপাশি বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদকেও জানানোর অনুরোধ করেন।
এর আগে বিকেলে বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে যান। বাড়ির ভেতরে প্রবেশের পর তারা দ্বিতীয় তলা ও ছাদে যাওয়ার অনুমতি চান। সেখানে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুমতি প্রয়োজন।
পরে সংগঠনটির নেতারা মহানগর পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে ঘটনাস্থলের ক্রাইম সিনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে তাদের সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এরপর তারা বাড়িটির নিচতলা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করেন। পরে চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন আইনজীবী ঐক্য পরিষদের নেতারা।
এ সময় সাবেক জেলা জজ সুধোন্দু কুমার বিশ্বাস, বাংলাদেশ আইনজীবী ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক প্রজ্ঞা পারমিতা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক মিন্টু চন্দ্র দাস, রংপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহেদ কামাল ইবনে খতিব, ধর্ম ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কাওছার আলী, রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগসহ আইনজীবী ঐক্য পরিষদ ও বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au