হাতকড়াসহ পালালেন আওয়ামী লীগ নেতা, থানায় ধরে নেওয়া হলো ৭ স্বজনকে
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হাত থেকে হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। পরে তাঁকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে বা ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানার…
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন থেকে বাঁচতে রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত ভবন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে একজন অজ্ঞাতপরিচয় শিশু রয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত করেনি প্রশাসন। বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, নিহতের সংখ্যা এবং মৃত্যুর কারণ নিয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৫ মিনিট থেকে ৬টা ২০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের নতুন ভবনের বহির্বিভাগে আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগে থাকা রোগী, স্বজন ও চিকিৎসাসেবায় আসা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছিল। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গে খোঁজ নিয়ে কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বসী গ্রামের হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০), একই উপজেলার আহমদ আলীর ছেলে রমজান (৩৮), হোসেন আলীর ছেলে জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দা উপজেলার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫) রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নিহত অপরজন অজ্ঞাতপরিচয় শিশু বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব তথ্য এখনো প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা তালিকা নয়। ফলে নিহতদের পরিচয় ও মোট সংখ্যা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পর সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের নতুন ভবন থেকে জরুরি পরিস্থিতিতে বের হওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভবনটিতে একাধিক সিঁড়ি থাকলেও সেগুলোর কয়েকটি নিয়মিত তালাবদ্ধ রাখা হয়। ফলে আগুন লাগার পর রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা একটি সিঁড়ি দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এতে সেখানে তীব্র ভিড় ও হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ভবনের অন্য সিঁড়িগুলো খুলে রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগেও জানানো হয়েছিল। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে একাধিক বহির্গমন পথ ব্যবহার করা না গেলে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণেই আতঙ্কের মধ্যে পদদলিত হয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই অভিযোগের সত্যতা এবং সিঁড়িগুলো তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। একইভাবে পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।
ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা কয়েকজন রোগী ও স্বজন আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন। নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির মো. দুলাল তাঁর স্ত্রী জোসনাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাঁর দুই মেয়ে ও তিন নাতি আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থেকে বাবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসা সাথী আক্তার দাবি করেছেন, তিনি ঘটনাস্থলে দুই থেকে তিনটি মৃতদেহ দেখেছেন। তবে তাঁর দেখা মৃতদেহগুলো কীভাবে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের এবং তাঁদের মৃত্যুর কারণ কী ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
এদিকে ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার ছয়জন নিহত হওয়ার তথ্য এখনো নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বিভিন্ন মাধ্যমে ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য ছড়িয়ে পড়লেও তিনি এখন পর্যন্ত এর পক্ষে প্রমাণ পাননি।
তিনি বলেন, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও মর্গ থেকে পাওয়া তথ্যের মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে মৃত্যুর সংখ্যা বা মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত না হয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পদদলিত হয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে কি না, জানতে চাইলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের মৃত্যুর কোনো প্রমাণ তিনি পাননি। আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলেও সেগুলোও যাচাই করা হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করে সব তথ্য যাচাই করার কথা জানান তিনি।
ময়মনসিংহের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানও ঘটনাটি তদন্তাধীন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিহতদের তালিকা যাচাই করা হচ্ছে এবং তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ডিআইজি জানান, ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং র্যাবের কর্মকর্তারা বিষয়টি দেখছেন। এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। প্রয়োজন হলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
নিহতের সংখ্যা কীভাবে জানা গেল, সে বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তথ্য নিশ্চিত হওয়ার পর গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য, বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, র্যাবের অধিনায়ক, জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা। তাঁরা হাসপাতালের পরিস্থিতি, রোগীদের নিরাপত্তা এবং হতাহতের তথ্য যাচাই করেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারিও অব্যাহত রয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ভবনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথের অবস্থা এবং হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখন তদন্ত ও তথ্য যাচাই চলছে। বিশেষ করে ভবনের একাধিক সিঁড়ি ব্যবহারের সুযোগ ছিল কি না, সেগুলো কেন বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কী ধরনের ব্যবস্থা ছিল, তা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্যকে চূড়ান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল এবং এতে কয়েকজন আহত হওয়ার যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তা হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থাকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au