ইরানের আশপাশে ৩ রণতরি, ২ ল্যান্ডিং গ্রুপ পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে তিনটি বিমানবাহী রণতরি ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ ওই অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা…
দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দাবি করলেও বাজারে সংকট কাটছে না। বরং গত কয়েক সপ্তাহে সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সিলিন্ডারের দাম। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে ১২ কেজির সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে কোথাও কোথাও একটি ১২ কেজির সিলিন্ডারের জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
বিইআরসির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে গ্রাহকদের। গ্যাসের পরিমাণ অনুযায়ী অন্যান্য সিলিন্ডারের দামও বেড়েছে।
এলপি গ্যাস আমদানিকারক ও সিলিন্ডারজাতকারী কোম্পানিগুলো বাজারের সংকটের জন্য ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের দায়ী করছে। অন্যদিকে ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, অক্টোবর মাসে নতুন দাম ঘোষণার আগে কোম্পানিগুলো সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকেরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মার্চের শেষ দিক থেকে দেশে এলপি গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রতি মাসে বিইআরসি এলপি গ্যাসের দাম নির্ধারণ করে দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সেই নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি হচ্ছে না। আমদানি ও সরবরাহ সংকটের কথা বলে ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নিচ্ছেন।
গত সেপ্টেম্বর থেকে এলপি গ্যাসের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে শুরু করে। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা হলেও গত সপ্তাহে তা ২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। চলতি সপ্তাহে একই সিলিন্ডারের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। এ ছাড়া ৩৩ কেজির সিলিন্ডার এলাকাভেদে প্রায় ৫ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ কেজির সিলিন্ডার প্রায় ৫ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেশি দাম দেওয়ার পরও অনেক জায়গায় সহজে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় এক কোটি মানুষ এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন। প্রতি মাসে দেশে এলপি গ্যাসের চাহিদা প্রায় দেড় লাখ টন। এর প্রায় ৮০ শতাংশই রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে ১২ কেজির সিলিন্ডারের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমদানি হয়েছে আরও ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৪২ টন। ফলে দেশে আমদানি অব্যাহত থাকলেও বাজারে সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে সংকট দেখা দিয়েছে।
এলপি গ্যাসের সংকট নিয়ে গত সোমবার জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা। বৈঠকে কোম্পানিগুলো দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে।
এর পর বুধবার অনলাইন বৈঠকে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ এলাকায় এলপি গ্যাসের সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণসহ প্রতিবেদন পাঠাতেও জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমদানিকারক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। যেসব এলাকায় এলপি গ্যাসের সরবরাহ কম রয়েছে, সেসব এলাকায় সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
তবে কোম্পানিগুলো পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজারের চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় সিলিন্ডারের সংকট ও অতিরিক্ত দামের তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজধানীর গোড়ানের হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তাঁর দোকানে সাধারণত প্রতি মাসে ১০ থেকে ১৫টি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রি হয়। কিন্তু প্রায় ১৫ দিন ধরে তিনি কোনো সিলিন্ডার পাচ্ছেন না। তাঁর নিজের বাসাতেও এলপি গ্যাস ব্যবহার করা হয়। গ্যাস শেষ হয়ে গেলেও নতুন সিলিন্ডার না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন।
গোড়ানের কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ী জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার তারা ২ হাজার ২০০ টাকায় কিনেছিলেন। কিন্তু গতকাল একই সিলিন্ডারের জন্য তাদের ২ হাজার ৬০০ টাকা দিতে হয়েছে।
বনশ্রীর খানদানি রেস্তোরাঁর এক কর্মী জানান, তারা এলপি গ্যাস পেলেও এর দাম অনেক বেড়ে গেছে। বাড়তি গ্যাসের খরচ সামাল দিতে এক সপ্তাহ আগে রেস্তোরাঁয় প্রতি প্লেট ভাতের দাম ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা করা হয়েছে।
শুধু রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপি গ্যাস নয়, যানবাহনের জন্য ব্যবহৃত অটোগ্যাসের সরবরাহ নিয়েও সংকটের অভিযোগ উঠেছে। সাশ্রয়ী জ্বালানি হিসেবে অনেক ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক অকটেনের পরিবর্তে অটোগ্যাস বা এলপি গ্যাস ব্যবহার করেন।
তবে গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অটোগ্যাসের সংকট চলছে বলে অভিযোগ করেছেন চালকেরা।
বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সিরাজুল মাওলা জানান, দেশে অন্তত ১ হাজার ১০০টি অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে। বর্তমানে এসব স্টেশনে এলপিজির সরবরাহ প্রায় বন্ধ রয়েছে।
সংকট সমাধানে দ্রুত নতুন দাম সমন্বয়ের জন্য তারা বিইআরসির কাছে আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এখনো দাম সমন্বয় হয়নি এবং সরবরাহও বাড়েনি।
সাধারণত প্রতি মাসের ২ তারিখে বিইআরসি এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে। তবে ২ অক্টোবর শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ৪ অক্টোবর রোববার নতুন দাম ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দেশে কমবেশি ৩০টি এলপিজি অপারেটর থাকলেও আমদানির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে হাতে গোনা ৬ থেকে ৭টি কোম্পানি। বাজারে সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়ে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আমিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে অপারেটরদের উদ্দেশে সংগঠনটির একটি চিঠিতে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও কেউ অবৈধভাবে এলপিজি মজুত করলে এবং বিইআরসির নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো এলপিজি অপারেটর, পরিবেশক, ডিলার বা খুচরা বিক্রেতা নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলে কিংবা নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস মজুত করলে তা প্রচলিত আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এলপিজি সংকট ও অতিরিক্ত দামের বিষয়ে বিইআরসির চেয়ারম্যান ও একজন সদস্যের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। একইভাবে কয়েকটি এলপিজি কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au