পর্যাপ্ত মজুতেও এলপি গ্যাসের সংকট তীব্র, দামও লাগামছাড়া
দেশে এলপি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দাবি করলেও বাজারে সংকট কাটছে না। বরং গত কয়েক সপ্তাহে সংকট আরও তীব্র হয়েছে এবং এর…
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে তিনটি বিমানবাহী রণতরি ও দুটি ল্যান্ডিং গ্রুপ ওই অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট সান ডিয়েগো ঘাঁটি ছেড়ে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ নাগাদ ইরানের আশপাশে এসব রণতরি ও ল্যান্ডিং গ্রুপের পূর্ণাঙ্গ মোতায়েন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সান ডিয়েগো ঘাঁটি থেকে ‘মেকিন আইল্যান্ড মেরিন এক্সপেডিশনারি ফোর্স’ও মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এই ল্যান্ডিং ফোর্সে দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনা রয়েছে।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সামরিক শক্তি জড়ো করা হচ্ছে। এর ফলে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন নীতিনির্ধারক ও সামরিক নেতৃত্বের সামনে একাধিক কৌশলগত বিকল্প থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক তৎপরতার মধ্যেই ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক যোগাযোগও অব্যাহত রয়েছে। যুদ্ধবিরতি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে ইরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিক্রিয়া বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপ থেকে তেহরান কখনো পিছিয়ে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, চুক্তি স্বাক্ষরের পরও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর তিনবার হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তারপরও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথা জানান ইরানের প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উল্লেখ করেছেন। ওভাল অফিসে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, অথবা সামরিক ব্যবস্থা নেবে, এবং এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের সময় ঘনিয়ে এসেছে।
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং যুদ্ধবিরতি নিয়ে মতপার্থক্য এখনো রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার। সর্বশেষ প্রস্তাবের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া ইরান পেয়েছে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যদিও সেই জবাবের বিস্তারিত বিষয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রয়েছে। আগস্টে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনও আরব সাগরে পৌঁছেছিল এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল।
নতুন করে ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্টের নেতৃত্বাধীন রণতরি বহর এবং দুই হাজারের বেশি মেরিন সেনার একটি ল্যান্ডিং ফোর্স মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর প্রস্তুতি পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সুত্রঃ আলজাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au