মার্কিন অবরোধ ভেঙে দক্ষিণের বন্দরে ইরানি জাহাজ, দাবি ইরানি সেনাবাহিনীর
মেলবোর্ন, ২১ এপ্রিল- ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ মার্কিন অবরোধ অমান্য করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বন্দরে সফলভাবে নোঙর করেছে। সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ — হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেল সরকারের কিছু দাবিকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা মানতে অস্বীকৃতি জানালে, ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য নির্ধারিত ২.২ বিলিয়ন ডলারের বহু বছরের অনুদান ও ৬০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্থগিত করার ঘোষণা দেয়।
এই অর্থায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন হার্ভার্ড প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানায়, তারা নিয়োগ নীতিতে পরিবর্তন, নিয়ম ভঙ্গকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের রিপোর্ট করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্য নিশ্চিত করার মতো ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি মানবে না। প্রশাসন “ভিউপয়েন্ট ডাইভারসিটি” বা দৃষ্টিভঙ্গির বৈচিত্র্যের যে দাবি তুলেছে, তা স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করেনি, তবে তা মূলত রক্ষণশীল মতাদর্শ অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যেই বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্ট অ্যালান গারবার এক বিবৃতিতে বলেন,
“কোনো সরকার—যেই দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন—বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কি শেখানো হবে, কাকে ভর্তি বা নিয়োগ দেওয়া হবে, কিংবা কোন বিষয়ে গবেষণা হবে—তা নির্দেশ দিতে পারে না।”
ট্রাম্প প্রশাসনের এক চিঠিতে বলা হয়েছিল, হার্ভার্ডকে তাদের নিয়োগ তথ্য ও ভর্তির তথ্য (জাতিসত্তা, গ্রেড, টেস্ট স্কোরসহ) ফেডারেল সরকারের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে, প্ল্যাজিয়ারিজম চেক করতে হবে, এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ ব্যবস্থা অডিটের আওতায় রাখতে হবে। এছাড়া ডাইভার্সিটি ও ইনক্লুশনের যেকোনো প্রোগ্রাম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
হার্ভার্ডের প্রতিক্রিয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর স্বাধীনতার রক্ষায় একটি সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি জানায়, গত ১৫ মাসে তারা ক্যাম্পাসে বৈচিত্র্য ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ধর্মীয় বিদ্বেষ প্রতিরোধে কাজ করেছে।
এই ঘটনায় হার্ভার্ডের সঙ্গে ৯টি নামকরা গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় এবং তিনটি বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
হাওয়ার্ডের শিক্ষার্থীরা বলছে, তারা অনেক দিন ধরেই উদ্বিগ্ন ছিল প্রশাসনের চাপে বিশ্ববিদ্যালয় নতিস্বীকার করবে কিনা। তবে ড. গারবারের এই অবস্থান তাদের স্বস্তি দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট টেড মিচেল বলেন, “হার্ভার্ডের এই সাহসী পদক্ষেপ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও অনুপ্রাণিত করবে।”
ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থায়ন স্থগিতের সপ্তম ঘটনা
হার্ভার্ড এই ধরনের পদক্ষেপের শিকার সপ্তম বিশ্ববিদ্যালয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এর আগে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে লক্ষ্যবস্তু করে, যেটি বিলিয়ন ডলার কেটে নেওয়ার হুমকির মুখে সরকারের দাবিগুলো মানতে বাধ্য হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং নীতি-নির্ধারণে প্রভাব ফেলার লক্ষ্যে ট্রাম্প প্রশাসন নিয়মিতভাবে সরকারি তহবিল আটকে দেওয়ার মতো ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এই পন্থা এখন প্রশাসনের একটি ‘নতুন স্বাভাবিক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au