চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ —পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নতুন ওয়াকফ আইন ঘিরে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বাবা-ছেলে হরগোবিন্দ দাস (৭২) ও চন্দন দাস (৪০), যাদের ঘর থেকে টেনে বের করে পিটিয়ে হত্যা করে একদল দাঙ্গাকারী। আহত হয়ে মারা গেছেন এজাজ আহমদ নামের একজনও।
এই সহিংসতার জেরে অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন পারলালপুর হাই স্কুলে, যা আপাতত একটি অস্থায়ী ত্রাণশিবিরে রূপান্তরিত হয়েছে। স্কুলটির একটি শ্রেণীকক্ষে প্লাস্টিকের চাদরে বসে আছেন সপ্তমী মণ্ডল (২৪), কোলে তার মাত্র আট দিন বয়সী শিশু। তিনি বললেন, “আমরা গঙ্গার ওপারে থাকি, সড়কপথে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। জানি না, আর কখনও ফিরতে পারব কিনা।”
সপ্তমী আরও জানান, “শুক্রবার আমাদের বাড়ির পাশের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় দাঙ্গাকারীরা। আমাদের বাড়িতেও পাথর ছোড়ে। আমি, বাবা-মা লুকিয়ে থাকি, তারপর সন্ধ্যায় বিএসএফ টহল শুরু করলে পালিয়ে যাই। কেবল গায়ের জামাকাপড় ছাড়া কিছুই আনতে পারিনি।”
সপ্তমীর মা মহেশ্বরী মণ্ডল বলেন, “গঙ্গা পেরিয়ে আমরা অপর পাড়ের এক গ্রামে পৌঁছাই। সেখানকার এক পরিবার আমাদের আশ্রয় দেয়, কিছু কাপড় দেয়। তারপর এই স্কুলে চলে আসি।”
“নদী পার হওয়ার সময় আমার বাচ্চার জ্বর আসে… এখন আমরা অন্যের দয়ার ওপর নির্ভর করছি,” কাতর কণ্ঠে বলেন সপ্তমী। “আমরা নিজের দেশে শরণার্থী হয়ে গেছি। যদি আবার হামলা হয়, তাহলে কী হবে?”
এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৪০০ জন, যারা ধুলিয়ান, সুতী এবং সামাহেরগঞ্জ এলাকা থেকে এসেছেন।
ধুলিয়ানের বিধবা তুলোরানি মণ্ডল (৫৬) বলেন, “আমার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চাই, আমাদের এলাকায় স্থায়ী বিএসএফ ক্যাম্প হোক। তবেই ফেরার সাহস পাব।”
প্রতিমা মণ্ডল (৩০) জানালেন, “আমরা ছাদে লুকিয়ে ছিলাম, তখনই দাঙ্গাবাজরা আমাদের ঘর তছনছ করে। পরদিন সন্ধ্যায় নদী পেরিয়ে এসেছি। আমার এক বছরের সন্তান আছে। পুলিশ ও বিএসএফ একদিন থাকবে, তারপর আমাদের রক্ষা করবে কে?”
ধুলিয়ানের সবজিপট্টির বাসিন্দা নমিতা মণ্ডল (৪০) তার ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন এই স্কুলে। তিনি বলেন, “আমরা কিছুই আনতে পারিনি। এখন শুধু বাঁচার চেষ্টা করছি।”
বিদ্যালয়ের বেঞ্চ সরিয়ে বিছানার ব্যবস্থা করা হয়েছে, স্থানীয় গ্রামবাসী ও প্রশাসনের সহায়তায় চলছে খাদ্য, ওষুধ ও জামাকাপড় সরবরাহ। বিদ্যালয়ে মোতায়েন রয়েছে সশস্ত্র পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স।
স্থানীয় বাসিন্দা রেবা বিশ্বাস (৫৭) বলেন, “আমরা শুক্রবার রাতে এদের ঘরে রেখেছিলাম, পরে স্কুলে নিয়ে এসেছি।” মিড-ডে মিল রান্নার ঘরটি এখন অস্থায়ী রান্নাঘর, ডরমিটরি ঘরটি খাওয়ার হল হয়ে উঠেছে।
কুম্ভিরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ড. প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, “এখানে একজন গর্ভবতী মহিলা আছেন, আরেকজনকে প্রসবের জন্য বেদরাবাদ গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”
কালিয়াচক ৩ নম্বর ব্লকের বিডিও সুখান্ত সিকদার জানান, “আমরা খাবার, শিশুখাদ্য, দুধ, জামাকাপড়, ত্রিপল ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছি।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যান এবং আশ্রিতদের সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি আসার আগে পুলিশ স্কুলের গেট বন্ধ করে দেয়, তবে পরে তাকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট করে দেয়, এখনও মুর্শিদাবাদের বহু মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন — তাঁদের একটাই প্রশ্ন, “কবে ফিরতে পারব নিরাপদে নিজেদের বাড়িতে?”
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রবিক ভট্টাচার্যের রিপোর্ট অবলম্বনে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au