চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৬ এপ্রিল ২০২৫ —পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে নতুন ওয়াকফ আইনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে গুজব, ভুল তথ্য ও উস্কানিমূলক বার্তা। প্রশাসন জানিয়েছে, তিন জনের প্রাণহানির পর এখনও পর্যন্ত ১,০৯৩টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে এবং ২২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানান, নতুন ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে একাধিক সংগঠন প্রতিবাদসভা আহ্বান করেছিল। প্রথম সংঘর্ষ ঘটে ৮ এপ্রিল উমরপুরে, জাতীয় সড়ক ১২-তে বিক্ষোভকারীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে এবং দুটি পুলিশ জিপে আগুন লাগিয়ে দেয়। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু ১১ এপ্রিল পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সেদিন সাজুরমোড় ও ডাকবাংলো এলাকায় দাঙ্গাবাজরা বাস, প্রাইভেট গাড়ি, পুলিশ জিপ ও দোকানপাটে আগুন লাগায়। পাশাপাশি, শমসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান ও সুতির গ্রামগুলিতে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। জাফরাবাদে হরগোবিন্দ মণ্ডল (৭২) ও তাঁর ছেলে চন্দন মণ্ডল (৪০)–কে বাড়ি থেকে টেনে বের করে কুপিয়ে হত্যা করে উত্তেজিত জনতা। সূর্যরমোড়ে পুলিশের গুলিতে তিন যুবক আহত হয়, যাদের মধ্যে একজন ইজাজ আহমেদ পরদিন মারা যায়।
জেলা প্রশাসন ও পুলিশের মতে, সহিংসতার আগে সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছড়িয়ে পড়ে ভুয়া বার্তা—“জমি, ধর্মীয় স্থান, এমনকি কবরস্থানও কেড়ে নেওয়া হবে”, “পূজার অধিকার কেড়ে নেওয়া হবে” —এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হয়। পাশাপাশি একাধিক ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে সেই গুজবকে আরও ছড়ানো হয়। ইজাজ আহমেদের গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, “ঈদের জন্য অনেক যুবক শহর থেকে গ্রামে ফিরেছিল। ইজাজ চেন্নাইয়ের একটি হোটেলে কাজ করত, ১৩ এপ্রিল তার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল।”
প্রথমদিকে ১১ এপ্রিলের প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিক্ষোভকারীরা সুজারপুর ও ডাকবাংলো ক্রসিং অবরোধ করে এবং দুষ্কৃতীরা গাড়ি ও দোকানে আগুন লাগাতে শুরু করে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, “আমরা যখন জাতীয় সড়কের সহিংসতা সামলাচ্ছিলাম, তখন গ্রামগুলিতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশাল সংখ্যক মানুষ একত্রিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। সুজারপুর ক্রসিংয়ে চার রাউন্ড গুলি চালাতে হয়েছে।”
বেদবোনা গ্রামের বাসিন্দা রামকুমার মণ্ডল (৬৫) বলেন, “আমাদের গ্রামে শুক্রবার সন্ধ্যায় আক্রমণ হয়। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দুষ্কৃতীরা বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং আগুন লাগায়। আমার বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অধিকাংশ গ্রামবাসী নদী পেরিয়ে মালদায় পালিয়ে গেছেন।”
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে রাজ্য পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইন-শৃঙ্খলা) জাভেদ শামীম বলেন, “আমরা শুধু পাথর ছোঁড়া ও অগ্নিসংযোগকারীদের নয়, যারা এই হিংসা উস্কে দিয়েছে, তাদেরও খুঁজে বের করছি। কাউকে ছাড়া হবে না। এই সহিংসতার একটা নির্দিষ্ট ছক ও পরিকল্পনা ছিল।”
গুজবই এখনো বড় সমস্যা…
তিনি আরও বলেন, “গুজবই এখনো বড় সমস্যা। হোয়াটসঅ্যাপে একবার গুজব ছড়ালে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেই কারণেই ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছে। প্রথম কয়েক রাতে এত ফোন আসত যে আমাদের অফিসাররা ফোন সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। এখন পরিস্থিতি শান্ত, আমরা চাই দ্রুত স্বাভাবিকতা ফিরে আসুক।”
শামীম জানান, “আমরা মৌলবাদী গোষ্ঠীর ভূমিকা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এমনকি অন্য জেলা বা রাজ্য থেকেও দুষ্কৃতীরা এসে থাকতে পারে। এলাকাটি বাংলাদেশের সীমান্তে এবং ঝাড়খণ্ড মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে। দুষ্কৃতীদের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল লুটপাট।”
অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক সুপ্রতিম সরকার বলেন, “গুজব ছড়ানোদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও এক্স-এ ১,০৯৩টি ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। বাবা ও ছেলের খুনের ঘটনায় বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে এবং দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এই খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের সবাইকেই ধরা হবে।”
সূত্র: ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস, রবিক ভট্টাচার্যের রিপোর্ট অবলম্বনে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au