নড়াইলে নেশার টাকা না পেয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা
নড়াইলের লোহাগড়ায় নেশার টাকা না পেয়ে আফসার শেখ (৬০) নামে এক বাবাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তাঁর ছেলে খায়রুল শেখ (২৪)। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার…
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে সামরিক চাপের মধ্যে থাকলেও ইরানকে ৯০টি হেলিকপ্টারে ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা রুশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তি মস্কো ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার একটি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ২০২৪ ও ২০২৫ সালের উৎপাদন পরিকল্পনায় বিদেশে হেলিকপ্টারে ব্যবহারযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক রপ্তানির একটি চুক্তির উল্লেখ রয়েছে। নথিতে ক্রেতা হিসেবে সরাসরি ইরানের নাম দেওয়া হয়নি। এর পরিবর্তে ‘কে-১০’ সাংকেতিক নাম ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাতের নথিতে ইরানকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘কে-১০’ নামে চিহ্নিত ক্রেতা ৯০টি এপিইউ-এল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকের অর্ডার দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় অস্ত্র রপ্তানিকারক সংস্থা রোসোবোরোনেক্সপোর্ট ইরানকে বোঝাতে এই সাংকেতিক নাম ব্যবহার করে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা অভ্যন্তরীণ নথি এবং এ বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির তথ্য থেকে জানা গেছে।
চুক্তিটির তথ্য আগে প্রকাশ্যে আসেনি। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কীভাবে বিস্তৃত হয়েছে, নতুন এই তথ্য তারই একটি উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের হাতে আসা উৎপাদনসংক্রান্ত নথিটি ২০২৪ সালের মে মাসে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিম্পেলের পাঠানো একটি চিঠির সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই চিঠিতে ভিম্পেল রাশিয়ার আরেক প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান কেবিএমের কাছে হেলিকপ্টারে স্থাপনযোগ্য দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক, এপিইউ-এল ও এপিইউ-৩০৫-এর যন্ত্রাংশ দ্রুত সরবরাহের অনুরোধ জানায়। চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছিল, যন্ত্রাংশ সরবরাহে দেরি হলে মোট নয়টি চুক্তি বাস্তবায়ন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
চিঠির সঙ্গে থাকা উৎপাদন তালিকায় সাতটি রুশ প্রতিষ্ঠান এবং দুটি বিদেশি ক্রেতার নাম উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে চীন ১৯২টি এপিইউ-৩০৫ উৎক্ষেপকের অর্ডার দিয়েছিল। অন্য ক্রেতাকে ‘কে-১০’ নামে চিহ্নিত করা হয়, যার অর্ডার ছিল ৯০টি এপিইউ-এল উৎক্ষেপক।
‘কে-১০’ সাংকেতিক নামটির সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের পক্ষে আরও কিছু নথির তথ্য তুলে ধরেছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ ও হালকা আক্রমণকারী বিমান সরবরাহের একটি চুক্তি। সেখানে ক্রেতার পরিচয় হিসেবে স্পষ্টভাবে ‘কে-১০, ইরান’ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা রোস্তেকের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০২৩ সালের উৎপাদন পরিকল্পনায় ইরানের জন্য ছয়টি ইয়াক-১৩০ বিমান তৈরির তথ্য পাওয়া গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই বছরের প্রথম ছয় মাসে দুটি এবং পরবর্তী ছয় মাসে আরও চারটি বিমান তৈরির কথা ছিল।
ইরানে এসব বিমান সরবরাহের তথ্যের সঙ্গেও উৎপাদন পরিকল্পনার মিল রয়েছে। ২০২৩ সালে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম জানিয়েছিল, দেশটি দুটি ইয়াক-১৩০ বিমান পেয়েছে। পরে স্টকহোম আন্তর্জাতিক শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ছয়টি বিমানই ইরানের কাছে সরবরাহ করা হয়।
এদিকে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের দাবি, চলতি বছর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সময় রাশিয়া ও ইরানের সামরিক সহযোগিতা আরও বেড়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইরানকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা খুবই সামান্য, এমনকি দেশটি কোনো সহায়তাই দিচ্ছে না।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়া ইরানকে সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ইরানের কাছে কাঁধে বহনযোগ্য ‘ভার্বা’ বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করেছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে, এমন তথ্য নিয়েও তেহরানের সঙ্গে মস্কোর যোগাযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের অনাবাসিক গবেষক নিকোল গ্রাজিউস্কি বলেন, নিজেদের যুদ্ধের চাপ থাকা সত্ত্বেও রাশিয়া ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করতে আগ্রহী। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আপত্তিকে আগের তুলনায় কম গুরুত্ব দিচ্ছে মস্কো।
তবে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নথিতে ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপকের অর্ডারের উল্লেখ থাকলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত ইরানের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au