শ্রমিক আন্দোলনের মধ্যে আদালতে পরীমনি-কাণ্ড, কাকতালীয় নাকি পরিকল্পিত?
ভাস্কর দত্ত দেশে শ্রমিকদের আন্দোলন, বেতন-ভাতা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সংকট নিয়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, ঠিক তখনই সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় অংশের মনোযোগ কেড়ে…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট :
গোপালগঞ্জ সরকারি জেলা স্কুলে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৬ অক্টোবর বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দায় কয়েকজন শিক্ষার্থীর রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে টিফিনের পর কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের চারতলার শ্রেণিকক্ষের সামনের বারান্দায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান দেয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ একজন মুঠোফোনে স্লোগানের ভিডিও ধারণ করে। পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত ভাইরাল হয়।
ঘটনার পরদিন ৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেনকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে। গত ৪ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নয় শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
টিসি পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবম শ্রেণির সাতজন, অষ্টম শ্রেণির একজন এবং দশম শ্রেণির একজন রয়েছে। তারা হলেন—নবম শ্রেণির মো. আলীরাজ, শাহজালাল মুন্সি, কাজী সাইদুল ইসলাম সাইদ, শ্রান্ত মজুমদার, শেখ আব্দুল্লাহ তাসীন, রাইয়ান খান ও রিয়াজুল মুন্সি। অষ্টম শ্রেণির রেজাউল করীম এবং দশম শ্রেণির সাজিদ কাজী।
তদন্ত কমিটির প্রধান সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন জানান, বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার ঘটনা তদন্ত করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিও পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিয়াউল হক বলেন, ঘটনার সময় তিনি নামাজে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে বিদ্যালয়ে স্লোগান দেওয়ার বিষয়ে তাঁকে জানানো হয়। অন্য শিক্ষকদের কাছ থেকেও ঘটনার সত্যতা জানতে পারেন তিনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সভাপতি ও গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেছেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ৯ শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর দাবি, আইন মেনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au