অভিষেকেই ৪৭ বছর রেকর্ড ভাঙলেন ভারতীয় ক্রিকেটার
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন স্পিন যুগের সূচনা হতে পারে মানব সুথারের হাত ধরেই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজের অভিষেক টেস্ট ম্যাচেই দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্য দেখিয়ে ৪৭…
মেলবোর্ন, ০৩ মে—যুক্তরাজ্যে নিজের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় হেরে যাওয়ার পর বিবিসিকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে ব্রিটিশ রাজপুত্র হ্যারি জানিয়েছেন, তিনি রাজপরিবারের সঙ্গে ‘পুনর্মিলনের’ আশায় আছেন।
“আমি সবসময় চাই একদিন আমাদের মধ্যে পুনর্মিলন হবে। জীবন অনেক মূল্যবান—আর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও মানে হয় না।”
ডিউক অব সাসেক্স বলেন, “আমি সবসময় চাই একদিন আমাদের মধ্যে পুনর্মিলন হবে। জীবন অনেক মূল্যবান—আর লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আর কোনও মানে হয় না।”
তিনি বলেন, “আমার বাবা (রাজা চার্লস) আমার সঙ্গে কথা বলছেন না নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে, কিন্তু আমি তার সঙ্গে আর সংঘর্ষ চাই না। আমি জানি না আর কতদিন আমার বাবা বাঁচবেন।”
সাক্ষাৎকারটি দেওয়া হয় ক্যালিফোর্নিয়ায়, যেখানে তিনি বর্তমানে বসবাস করছেন। গত শুক্রবার তিনি যুক্তরাজ্যের আদালতে তার নিরাপত্তা সুবিধা পুনর্বহালের মামলা হেরে যান।
বাকিংহাম প্যালেস এ বিষয়ে জানায়, “এই বিষয়গুলো বহুবার আদালতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং প্রতিবার একই সিদ্ধান্ত এসেছে।”
প্রিন্স হ্যারি বলেন, “আমি এখন এমন এক পরিস্থিতিতে আছি, যেখানে আমার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে ফেরা সম্ভব নয়, যদি না রাজপরিবার আমাকে আমন্ত্রণ জানায়—কারণ কেবল তখনই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে।”
তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালে তার নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তে রাজপরিবার হস্তক্ষেপ করেছিল এবং সেটি ছিল একটি ‘পুরোনো দিনের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’। তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্ত শুধু আমাকে নয়, আমার স্ত্রী ও সন্তানদেরকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তারা জানত যে এই ঝুঁকি আমাদের ওপর চাপিয়ে দিয়ে আমাদের যুক্তরাজ্যে ফিরে যেতে বাধ্য করবে। কিন্তু যখন দেখল তা হচ্ছে না, তখন কি আমাদের নিরাপদ রাখা তাদের দায়িত্ব নয়?”
হ্যারি জানান, তার নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিদিনের জীবনে প্রভাব ফেলছে এবং তিনি শুধুমাত্র রাজপরিবারের আমন্ত্রণেই যুক্তরাজ্যে নিরাপদে ফিরতে পারেন।
আদালতের রায় নিয়ে তিনি বলেন, “আমি হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম, যখন জানতে পারলাম রাজপরিবারের একজন প্রতিনিধি রাভেক কমিটির সদস্য ছিলেন।”
তিনি দাবি করেন, এই কমিটি যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করেনি এবং তাদের সিদ্ধান্তে রাজপরিবারের প্রভাব ছিল আইনগত কাঠামোর চেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, “রাজপরিবারের হস্তক্ষেপে আমার ঝুঁকি-মূল্যায়ন এক রাতেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি থেকে সবচেয়ে কম ঝুঁকির তালিকায় চলে যায়।”
সাক্ষাৎকারের শেষে প্রিন্স হ্যারি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারকে অনুরোধ করেন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে এবং রাভেক কমিটির কার্যক্রম পুনঃপর্যালোচনা করতে।
তিনি বলেন, “আমি কুপারকে চিঠি লিখব যাতে তিনি অবিলম্বে এই বিষয়টি পর্যালোচনা করেন এবং রাভেকের প্রক্রিয়াগত ত্রুটি খতিয়ে দেখেন।”
হ্যারির এই বক্তব্য রাজপরিবার ও ব্রিটিশ সরকারের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের একটি জোরালো প্রতিফলন—যা শুধু একটি নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং এক ভেঙে পড়া পারিবারিক সম্পর্কের প্রতিচ্ছবি।
সূত্র: বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au