‘শেখ হাসিনা কী বলছেন, তা তাঁর নিজের বিষয়’: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।…
মেলবোর্ন, ১৯ জুন—ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানজুড়ে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গেছে। এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই ‘ব্ল্যাকআউট’ কোনো ইসরায়েলি সাইবার হামলার কারণে নয়, বরং এটি ইরানি সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্তের ফল।
গ্লোবাল ইন্টারনেট সংযোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেন্টিক’ ও ‘নেটব্লক্স’-এর বরাত দিয়ে এনবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৫ টায় ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। এর ফলে দেশটির নাগরিকদের জন্য বাইরের বিশ্বের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের দুটি প্রধান মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
ইরানি সরকারের অবস্থান
ইরানি সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের সাইবার আক্রমণের জবাবে এই ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান এর আগেও গণবিক্ষোভ বা অস্থিরতার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা সীমিত করেছে। ২০১৯ সালে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হলে ইরান ছয় দিনব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বাস্তবায়ন করেছিল, যা সরকারের দমন-পীড়নের অংশ ছিল। ওই সময় ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল বলে জানা যায়।
হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, অ্যাপ স্টোর বন্ধ
মিয়ান গ্রুপ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠনের ডিজিটাল অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ক পরিচালক আমির রশিদি জানান, ইরানে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রামসহ অনেক পশ্চিমা যোগাযোগমাধ্যম ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, অ্যাপল ও গুগলের অ্যাপ স্টোরও ইরানে বন্ধ রয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপের একজন মুখপাত্র এনবিসি নিউজকে জানিয়েছেন, তাদের মূল কোম্পানি মেটা ইরানের সঙ্গে “বিড়াল-ইঁদুর খেলার মতো” এক অবস্থা মোকাবিলা করছে — একদিকে অ্যাপ বন্ধ, অন্যদিকে তা চালু রাখতে চেষ্টা চলছে।
যা এখনো চালু আছে ইরানে
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, ইরানে ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ নামক একটি সরকার অনুমোদিত অভ্যন্তরীণ ওয়েব নেটওয়ার্ক রয়েছে। এটি বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত না হলেও এখনো ব্যবহারকারীদের জন্য খোলা রয়েছে।
অনেক ইরানি নাগরিক ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর আহ্বান জানিয়েছেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন সংকটময় অঞ্চলে ইতোমধ্যে চালু রয়েছে।
জবাবে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এলন মাস্ক লেখেন, “The beams are on”। অর্থাৎ, ইরানে স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগ চালু রয়েছে—এই ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে ইরান সরকার স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহারে আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দেশটির সাঈদ নিউজ এজেন্সি সতর্ক করেছে, স্টারলিংক ব্যবহারের মাধ্যমে ইসরায়েল তাদের হামলার লক্ষ্য ঠিক করতে সুবিধা পেতে পারে।
স্টারলিংকের মূল কোম্পানি স্পেসএক্স এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বর্তমানে স্টারলিংক ইরানে সরকারিভাবে সক্রিয় না হলেও, সংস্থাটি ‘গ্লোবাল রোম’ নামে একটি বৈশ্বিক পরিষেবা বিক্রি করে থাকে, যা আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য বাজারজাত করা হয়।
হোলিস্টিক রেজিলিয়েন্স নামে একটি অলাভজনক সংস্থা, যারা নিয়ন্ত্রিত সমাজে তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে, তারা জানিয়েছে, নেটওয়ার্ক স্ক্যান এবং স্থানীয় বিক্রেতাদের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে ইরানে প্রায় ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ স্টারলিংক টার্মিনাল ছড়িয়ে আছে বলে তারা অনুমান করে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au