ইরানের নিরাপত্তা সদরদপ্তরে হামলার পর ধোঁয়া উঠছে।
মেলবোর্ন, ১৯ জুন— ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর সদরদপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলের বিমান বাহিনী।
বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো এই হামলা চালিয়েছে এবং ইসরায়েল ‘ইরানি শাসনের প্রতীকগুলোকে’ লক্ষ্যবস্তু করা অব্যাহত রাখবে। তবে এই অভিযান বা এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
কাটজের এই বক্তব্য আসে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই।
সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তাদের যুদ্ধবিমান তেহরানে ‘ইরানি শাসনব্যবস্থার অধীন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের পর তেহরানের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাংশে একাধিক স্থানে ধোঁয়ার কুণ্ডলী আকাশে উঠছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, বুধবার ইসরায়েল তেহরানের কাছে অবস্থিত পায়াম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, বিস্ফোরণের পর তেহরানের উত্তর-পশ্চিমে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরানি সূত্রগুলো বলছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় তেহরানে অবস্থিত ইরানি রেড ক্রিসেন্টের একটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও আসেনি।
গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক বিমান হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যা মোকাবিলা করতে ইসরায়েলের গর্বের ‘আয়রন ডোম’ দৃশ্যত ব্যর্থ হয়েছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঝড় ঠেকাতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদও ফুরিয়ে এসেছে বলে খবর প্রকাশ করেছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
এর মধ্যে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত মিলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার এক টুইটে বলেছেন, ইরানের আকাশ তাদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে। ট্রাম্প এই টুইটে যে ‘আমরা’ শব্দটি ব্যবহার করেন, সেটিই যুদ্ধে তার দেশের জড়িত হওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ট্রাম্প এমনও বলেছেন যে, ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অবস্থান তারা জানেন এবং চাইলেই তাকে হত্যা করতে পারেন। তবে এখনই তাকে হত্যা করা হবে না।
আরেক টুইটে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের পরামর্শও দিয়েছেন ট্রাম্প। জবাবে খামেনি বলেছেন, ইরানিরা আত্মসমর্পণ করার জাতি নন। তিনি যুদ্ধ ঘোষণার কথাও বলেছেন।
এখন পর্যন্ত এই সংঘাতে ইরানে প্রায় ৬০০ জন এবং ইসরায়েলে ২৪ জন নিহত হয়েছেন।