মাউন্ট লেওয়াতোবি লাকি-লাকি ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। (AFP)
মেলবোর্ন, ২০ জুন- ২০১৭ সালে বালির মাউন্ট আগুঙ আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে পড়ে বিশৃঙ্খলায় পড়েছিলেন ব্রিসবেনের বাসিন্দা টেরেসা ও তাঁর বন্ধুরা। তারা ছুটি উপভোগ করতে ভ্রমণের সময় বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, কিন্তু ফেরার দিন হঠাৎ আগ্নেয়গিরি জেগে উঠলে সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
সেই সময় প্রায় ১,৫০,০০০ বাসিন্দাকে এলাকা ছাড়তে হয় এবং ছাই পড়ার কারণে ডেনপাসার বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। টেরেসা এবারে আবার বালিতে ছুটি কাটাতে গেছেন, কিন্তু বলছেন—এবার তিনি ভুল করেননি। ২০১৭ সালের মতো এবার বিমা ছাড়া বালিতে ছুটি কাটাতে আসেননি।
তিনি বলেন, “২০১৭ সালে আমাদের দলের মধ্যে শুধু একজন বন্ধুরই ভ্রমণ বিমা ছিল। তিনি দ্রুত সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট পেয়ে যান অগ্নুৎপাতের তিন দিনের মধ্যে।”
অন্যদের জন্য পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি কঠিন। কেউ সিডনিতে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় বসে থাকতে হয়েছে রাতভর ফুটপাতে। আরেকজন পার্থ ফেরার পথে ডারউইনে রাত কাটাতে বাধ্য হন, যেখানে বিমানবন্দর রাতের বেলায় বন্ধ ছিল।
টেরেসার নিজের ফিরে আসতে সময় লেগেছিল এক সপ্তাহেরও বেশি। তাকে প্রথমে মেলবোর্নে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে এয়ারলাইনের বুক করা একটি জরাজীর্ণ মোটেলে অবস্থান করতে হয়।
আবারও অগ্নুৎপাত, হাজারো যাত্রী বিপাকে
এই সপ্তাহে কাছাকাছি দ্বীপ ফ্লোরেসে মাউন্ট লেওয়াতোবি লাকি-লাকির অগ্নুৎপাতের পর কিছু সময়ের জন্য ডেনপাসার বিমানবন্দর বন্ধ ছিল, তবে এখন তা পুনরায় চালু হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এখনও ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রায় ১৪,০০০ যাত্রী এই অগ্নুৎপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বুধবার এক বিবৃতিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৮৭টি ফ্লাইট (৬৬টি আন্তর্জাতিক ও ২১টি অভ্যন্তরীণ) এই অগ্নুৎপাতের কারণে প্রভাবিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহর যেমন অ্যাডিলেইড, ব্রিসবেন, ডারউইন, মেলবোর্ন, পার্থ, সিডনি ছাড়াও সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, হো চি মিন সিটি, অকল্যান্ডসহ অনেক আন্তর্জাতিক গন্তব্যের ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্বিত হয়েছে।

বিশাল অগ্নুৎপাতের দৃশ্য ১৫০ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা গেছে। (AP)
ভ্রমণ বিমার গুরুত্ব
অ্যান্ড্রু নামে একজন যাত্রী যিনি ২০১৭ সালে আগুঙের অগ্নুৎপাতের সময় ইন্দোনেশিয়ার বানডুংয়ে ছিলেন, তিনি বলছেন—ভ্রমণ বিমা তার সম্পূর্ণ খরচ বহন করেছিল। তার ফ্লাইট বাতিল হলে তাকে অতিরিক্ত কয়েকদিন অবস্থান করতে হয়, পরে তিনি লম্বোক হয়ে বালিতে যান।
“আমার বিমা সব খরচ কভার করেছিল,” তিনি বলেন। “ভ্রমণে কখন কী ঘটে বলা যায় না। তাই প্রস্তুতি থাকা জরুরি।”
‘জানা ঘটনা’র আগেই বিমা নিতে হবে
CHOICE-এর বিমা বিশেষজ্ঞ জোডি বার্ড বলছেন, “ভ্রমণ বিমা হল ছুটির অপরিহার্য সুরক্ষা। যদি আপনি যথাসময়ে বিমা কিনে থাকেন, তবে ছুটি বাতিল বা পরিবর্তনের খরচ তা কভার করবে।”
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে বিমা পেতে হলে তা অবশ্যই ‘জানা ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার আগেই কিনতে হবে। একবার এটি সংবাদমাধ্যম বা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়ে গেলে নতুন বিমা সে ঘটনা কভার করবে না।
মাউন্ট লেওয়াতোবির মতো বড় ঘটনার ক্ষেত্রে অনেক বিমা কোম্পানি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়ে দেয় কোন তারিখের মধ্যে বিমা কিনলে কভার মিলবে।
কোথা থেকে কিনবেন বিমা?
ভ্রমণ বিমা সরাসরি বিমা কোম্পানির ওয়েবসাইট থেকে বা Webjet, Flight Centre-এর মতো ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে কেনা যায়। অনেক ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থেকেও ফ্রি বিমা সুবিধা মেলে।
তবে বিমা কেনার আগে কী কভার করা হয়েছে এবং কোন কোন বিষয়ে কভার নেই—তা ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।
