ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২২ জুন— ইসরায়েলের সেনা হামলার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি তার উত্তরসূরি হিসেবে তিন জ্যেষ্ঠ ইমামের নাম ঘোষণা করেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
এতে বলা হয়, খামেনি নিহত হলে এদের মধ্যে একজন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমটি বলছে, হামলায় সেনাপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডাররা নিহত হতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
খামেনির জরুরি যুদ্ধ পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত তিনজন ইরানি কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তারা জানান—আততায়ীর হামলার আশঙ্কায় খামেনেই এখন তার সেনা কমান্ডারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলছেন না। এর বদলে একজন বিশ্বস্ত সহকারীর মাধ্যমে তিনি যোগাযোগ রাখছেন।
নিজের অবস্থান চিহ্নিত হওয়া ঠেকাতে ইলেকট্রনিক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বন্ধ করে রেখেছেন।
ইরানি নেতা একটি বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েলের সেনা অভিযান শুরুর পর ইরানও পাল্টা হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে তেলআবিবসহ বিভিন্ন শহরের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম এক্সে দুটি বার্তা দিয়েছেন, যার একটিতে লেখা হয়, খামেনি কোথায় আছেন, সেটি তারা শনাক্ত করতে পেরেছেন। তিনি সহজ শিকার কিন্তু এখনই তাকে হত্যা করবেন না।
অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার খামেনিকে হত্যার ইচ্ছার কথা বলেছেন। তার দাবি, এর মধ্যে দিয়েই এই সংঘাতের ইতি ঘটবে।
গত বৃহস্পতিবার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ ইসরায়েলের বেয়ার-শেভার শহরে অবস্থিত সোরোকা মেডিকেল সেন্টারে আঘাত হানার পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল ক্যাটজ খামেনিকে যুদ্ধাপরাধের জন্য দায়ী করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি সেদিন বলেন, “ভীতু ইরানি স্বৈরশাসক একটি সুরক্ষিত বাংকারের গভীরে বসে ইচ্ছাকৃতভাবে ইসরায়েলের হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছেন।”
ইরানের একজন কর্মকর্তা নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, খামেনির এই সিদ্ধান্তটি সম্ভবত সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত যে, তাঁর তিন দশকের শাসন ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র এই মুহূর্তে কতটা অনিশ্চয়তায় রয়েছে।
গত শুক্রবার ইসরায়েল একাধিক আকস্মিক হামলা চালানোর পর থেকেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে খামেনেই একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
ইসরায়েল খোলাখুলি বলছে, ইরানের ক্ষমতার পরিবর্তন তাদের হামলার অন্যতম লক্ষ্য। ১৯৭৯ সালের ইরান বিপ্লবের পর পালিয়ে যাওয়া শাসক রেজা শাহ পাহলবির ছেলে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি ইরানিদেরকে এক বার্তায় বলেছেন, “দেশের শাসনভার পরিবর্তনের এটাই সুযোগ।”
তবে হামলা চালিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, তারা ইরানের শাসন ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন দেখতে পারছেন না।