একটি বি-২ বোমারু বিমান দুটি GBU-57 বাংকার-বাষ্টার বোমা নিক্ষেপ করছে।
মেলবোর্ন ২২ জুন-যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায়—ফোর্ডো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহান —জোরালো হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েল-ইরান চলমান সামরিক সংঘাতের মধ্যে এই পদক্ষেপ নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি আত্মসমর্পণ না করে, তাহলে আরও হামলার মুখোমুখি হতে হবে। তাঁর ভাষায়, “স্মরণ রাখুন, এখনও অনেক টার্গেট বাকি আছে।”
বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান কী?
বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অন্যতম ব্যয়বহুল সামরিক বিমান। প্রতিটি বিমানের মূল্য প্রায় ২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩.২৪ বিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
এই বিমান তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান কর্পোরেশন। এটি একমাত্র বিমান যা এত বড় এবং শক্তিশালী বোমা বহনে সক্ষম, যা পাহাড়ের নিচে নির্মিত ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক কেন্দ্র ফোর্ডো ধ্বংস করতে পারে। বি-২ বিমানের রেঞ্জ প্রায় ৬,০০০ নটিক্যাল মাইল (৯,৬০০ কিলোমিটার)। আকাশে জ্বালানি ভরার মাধ্যমে এটি পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম।
বিমানটি দুই সদস্যের পাইলট দ্বারা পরিচালিত হয়—বামদিকে পাইলট এবং ডানদিকে মিশন কমান্ডার।
বিমানটির বিশেষত্ব কী?
-
স্টিলথ প্রযুক্তি: বিমানের কাঠামোতে ব্যবহৃত রাডার-শোষণকারী উপাদান এবং তীক্ষ্ণ কৌণিক ডিজাইন এটিকে শত্রুপক্ষের রাডার থেকে প্রায় অদৃশ্য করে তোলে।
-
কম রাডার চিহ্ন: বিমানটির রাডার সিগনেচার একটি ছোট পাখির সমতুল্য, ফলে এটি খুব সহজে ধরা পড়ে না।
-
বহুমুখী অস্ত্র বহন: এটি সাধারণ ও পারমাণবিক উভয় ধরনের অস্ত্র বহনে সক্ষম।
মার্কিন বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি মিসৌরির এক ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আধুনিক ও কৌশলগত অস্ত্রসামগ্রীর একটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় বি-২ স্টিলথ বোমারু বিমান জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। (রয়টার্স: ইউএস এয়ার ন্যাশনাল গার্ড)
বাংকার-বাষ্টার বোমা (GBU-57 MOP) কী?
বি-২ বিমানে যে বোমাটি ব্যবহার করা হয়, সেটির নাম Massive Ordnance Penetrator (MOP) বা GBU-57। এটি ৩০,০০০ পাউন্ড ওজনের একটি প্রিসিশন-গাইডেড বোমা, যা গভীরভাবে মাটির নিচে থাকা টানেল বা বাংকার ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই বোমাটি প্রায় ১৩ টন ওজনের, উচ্চতা প্রায় ছয় মিটার, এবং এটি বিশেষভাবে শক্ত গঠনবিশিষ্ট ভূগর্ভস্থ কাঠামো ভাঙার জন্য তৈরি। প্রতিটি বি-২ বিমান দুটি করে MOP বহন করতে পারে। তবে সঠিকভাবে টার্গেটে আঘাত হানার জন্য প্রতিটি বোমাকে নিখুঁতভাবে নির্দিষ্ট গভীরতায় বিস্ফোরিত করতে হয়, যাতে কাঙ্ক্ষিত ধ্বংস সাধন সম্ভব হয়।
জাস্টিন ব্রঙ্ক, রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের এক বিমান যুদ্ধ বিশ্লেষক, বলেন,
“এ ধরনের হামলার জন্য নিখুঁত পরিকল্পনা ও বহুমাত্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।”
এই হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আবারও তার বৈশ্বিক সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। বি-২ বোমারু বিমান ও MOP বোমা একত্রে এমন এক ঘাতক জুটি তৈরি করেছে, যা যেকোনও রাষ্ট্রের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকেও চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে সক্ষম। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এর প্রভাব কতদূর যাবে, সেটিই এখন বিশ্ববাসীর চোখের সামনে।