হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসরায়েলি মালিকানাধীন জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট Miznon-এ হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৫ জুলাই) রাতে শহরের হার্ডওয়্যার লেনে এই রেস্টুরেন্টে প্রো-প্যালেস্টাইন আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রায় ২০ জনের একটি দল চেয়ার ছুড়ে, কাঁচের দরজা ভেঙে ও ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পুলিশের ভাষায়, এটি একটি স্পষ্ট “affray” বা সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা।
সোমবার (৮ জুলাই) সকালে মেলবোর্ন পুলিশের একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫০ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং ৪৮ ও ২৮ বছর বয়সী দুই নারীকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে assault, affray, riotous behaviour এবং criminal damage-এর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানায়, এ হামলার ফলে রেস্টুরেন্ট ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল এবং রেস্টুরেন্টের কর্মী ও অতিথিরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
গ্রেপ্তার হওয়া Richmond এলাকার ৫০ বছর বয়সী ওই পুরুষ আসামিকে জামিন না দিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। অন্য দুই নারীকে শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পরবর্তী শুনানি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
তেল আভিভ-ভিত্তিক এই জনপ্রিয় ফুড চেইনের শাখা Miznon মূলত ভূমধ্যসাগরীয় খাবার পরিবেশন করে। হামলার ঘটনায় এক বিবৃতিতে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘‘আমরা সব ধরনের মানুষকে স্বাগত জানাই, খাবার ও আতিথেয়তার মাধ্যমে মানুষকে একত্র করি। এই হামলার ফলে আমরা এবং আমাদের অতিথিরা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, মানসিক চাপের মধ্যে পড়েছি।’’
পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা শহরের কেন্দ্রে চলমান প্রো-প্যালেস্টাইন বিক্ষোভ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই হামলা চালায়। ওই রাতেই শহরের অন্য এলাকায়ও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে—যেমন East Melbourne-এ একটি সিনাগগে আগুন ধরিয়ে দেওয়া এবং Greensborough এলাকায় একটি কোম্পানির তিনটি গাড়ি পোড়ানো। তবে ঘটনাগুলোকে এখনো একে অপরের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে না, তদন্ত চলছে।
পুলিশের দ্রুত তৎপরতা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো। পুলিশের কাউন্টার-টেররিজম কমান্ডের প্রধান কমান্ডার ডোমিনিক মারফি জানান, এ ধরনের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়াকে “hostile operating environment” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে, যা প্রতিরোধ করতে নতুন টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া Richmond এলাকার যে পুরুষ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগেও হত্যার হুমকি ও জামিনের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ছিল, ফলে তাকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
হামলার ঘটনায় স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সীমানা অতিক্রম করে কিছু অংশগ্রহণকারী সহিংসতায় জড়াচ্ছে, যা পুরো শহরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশের মতে, হামলার পেছনে রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্য থাকলেও তা এক পর্যায়ে সহিংস অপরাধে রূপ নিয়েছে।
এ ঘটনায় শুধু এই তিনজনের বিরুদ্ধেই নয়, পুলিশ আরও যারা জড়িত তাদেরও শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী টাস্কফোর্সের মাধ্যমে হামলার পরিকল্পনা ও অর্থায়নের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মেলবোর্নের বিভিন্ন সম্প্রদায় এবং প্রশাসন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে সমর্থন করলেও, এই ধরনের সহিংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষোভ ও মতপার্থক্য যখন সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন তার পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে, এবং আইনের শাসন তা প্রতিহত করতেই সচেষ্ট।
সুত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au