হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
মেলবোর্ন, ২৪ এপ্রিল- দেশে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা আবারও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪…
মেলবোর্ন, ৯ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় প্রাক্তন প্রেমিকাকে গাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগে আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন ২৩ বছর বয়সী ল্যাচলান ইয়াং। বলারাটের কাছে একটি পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে হ্যানা ম্যাকগুইরের মরদেহ উদ্ধারের পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ইয়াং আদালতে ম্যানস্লটারের অভিযোগে দোষ স্বীকার করলেও সরাসরি হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের বলারাট শহরের কাছে, ২০২৪ সালের ৫ এপ্রিল।
২৩ বছর বয়সী ল্যাচলান ইয়াং তার প্রাক্তন প্রেমিকা হ্যানা ম্যাকগুইরকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে প্রথমে তাকে ঘুমের ওষুধ ‘রুফি’ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর একটি গাড়িতে করে হ্যানাকে নিয়ে যান বলারাটের একটি নির্জন স্থানে। সেখানেই গাড়ির ভেতর হ্যানাকে বসিয়ে গাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন ইয়াং, যাতে এটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়।
হ্যানার পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয় সেই দিনই, বলারাট শহরের উপকণ্ঠের একটি পথের ধারে পুড়ে যাওয়া গাড়ির ভেতর থেকে। ঘটনার পরপরই ইয়াং পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
এ ঘটনার আগে ইয়াং নিজের এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি হ্যানাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে “দূরে কোথাও নিয়ে গিয়ে” আত্মহত্যার মতো করে মৃত্যুর নাটক সাজাবেন। ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত বলে অভিযোগ করেছে প্রসিকিউশন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ইয়াং প্রাক্তন বান্ধবীর সঙ্গে সহিংস ও নিয়ন্ত্রণমূলক সম্পর্কের মধ্যে ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি পরিকল্পনা করে হ্যানাকে ‘রুফি’ নামের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন, তারপর গাড়িতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা মনে হয়। আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে দেখা গেছে, ঘটনার কিছুদিন আগে ইয়াং তার এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন এই পরিকল্পনার কথা।
অন্যদিকে ইয়াংয়ের আইনজীবীরা আদালতে বলেছেন, এটি ঠান্ডা মাথায় করা কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নয়, বরং মানসিক চাপে সম্পর্কজনিত জটিলতা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। তাই তাকে হত্যার জন্য নয়, বরং ম্যানস্লটারের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা উচিত।
এই মামলাটি অস্ট্রেলিয়ায় নারীর প্রতি সহিংসতা, সম্পর্কের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সহিংসতা ও আত্মহত্যা সাজানোর মতো অপরাধ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। হ্যানার পরিবার আদালতে তাদের যন্ত্রণার কথা জানিয়েছে এবং পুরো ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে স্থানীয় সম্প্রদায়েও। আদালত এখন সব সাক্ষ্য-প্রমাণ যাচাই করছে, ইয়াংয়ের উদ্দেশ্য এবং মানসিক অবস্থা আসলে হত্যার শাস্তিযোগ্য কি না, সেই বিষয়ে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে সবাই।
এই মামলার রায় শুধু ইয়াংয়ের ভাগ্য নয়, অস্ট্রেলিয়ায় সম্পর্কের সহিংসতা প্রতিরোধ ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর বার্তা দেবে বলেও অনেকে মনে করছেন।
সুত্রঃ নাইন নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au