শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় রাজশাহীতে বিএনপি নেতা আকবর আলী বহিষ্কার
মেলবোর্ন, ২৫ এপ্রিল- রাজশাহীর দুর্গাপুরে একটি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর এবং এক নারী শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনায় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করা…
মেলবোর্ন, ১২ জুলাই-
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) এবং কুইন্সল্যান্ড জুড়ে “কন্ট্রাক্ট ক্রু” নামে পরিচিত এক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের ছয় দিনব্যাপী তাণ্ডব দেশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ভয়াবহ এই ঘটনার মধ্যে ছিল অপহরণ, অমানবিক নির্যাতন, কানের অংশ কেটে নেওয়া, গুলি করে হত্যা এবং সবচেয়ে ভয়ংকরভাবে জীবন্ত কবর দেওয়ার মতো নৃশংসতা। অথচ এই বিভীষিকার মধ্যেও অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরেন এক ভুক্তভোগী, যিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়েও মাটির নিচ থেকে উঠে সহায়তা চান।
১২ জুলাই (শনিবার) একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিষয়টি সামনে এনেছে অষ্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম।
২০২৪ সালের জুলাই মাসের এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র মূলত ড্রাগ চক্রের হয়ে চাঁদা আদায়, দেনা-পাওনার বিরোধ ও প্রতিশোধমূলক হামলা চালাত। ভয়াবহতার মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, এক পর্যায়ে তারা একজনকে জীবন্ত মাটি চাপা দিয়ে হত্যা করতে চেয়েছিল, আরেকজনকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কানের অংশ কেটে লাশ ফেলে দেয়।
ঘটনার প্রথম অংশ ঘটে ১৯ জুলাই ২০২৪ সালে, যখন সিডনির ক্যানলি ভ্যালিতে ৩১ বছর বয়সী এক যুবককে অপহরণ করা হয়। তাকে প্রথমে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং কানের অংশ কেটে নেওয়া হয়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর, ২১ জুলাই, আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটে কুইন্সল্যান্ডের জিমবুম্বায়। সেখানকার এক নির্জন এলাকায় ২৩ বছর বয়সী এক যুবককে মাথায় গুলি করে মাটির গর্তে ফেলে দেওয়া হয় এবং তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আশ্চর্যজনকভাবে তিনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন; গুরুতর আহত অবস্থায় বের হয়ে আসেন এবং কাছের একটি সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে সহায়তা চান। চিকিৎসকরা পরে জানান, তার মাথার ভেতর এখনও গুলির আঘাতের চিহ্ন রয়ে গেছে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও এক বিস্ময়কর ঘটনা।
ছয় দিনের তাণ্ডবের শেষ ও সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটে ৩১ জুলাই সিডনির লুকাস হাইটসে। সেখানে রিচ “ডিলান” চৌপ নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তার কানের অংশ কেটে নেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের নজরে আসে যে, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং একটি সুসংগঠিত চক্রের ধারাবাহিক হামলার অংশ।
এ ঘটনায় নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ স্ট্রাইক ফোর্স হ্যালেট নামে একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। পুলিশের ধারণা, এই অপরাধীদের পেছনে ভিক্টোরিয়ার একটি বৃহৎ মাদক চক্রের হাত রয়েছে, যারা চাঁদাবাজি ও প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য “কন্ট্রাক্ট ক্রু” নামে পরিচিত এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ভাড়া করে।
পুলিশ এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আরও কয়েকজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল কল রেকর্ডসহ নানা ধরনের তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। NSW পুলিশের কর্মকর্তারা জনগণকেও এই অপরাধীদের সম্পর্কে যেকোনো তথ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেন, এরা আসলে কোনো মানুষ নয়, বরং “পশুর চেয়েও নৃশংস।” তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান।
এই লোমহর্ষক ঘটনার ভিডিও ও বিবরণ ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক মাধ্যমে মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অনেকে বলছেন, সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের এমন ভয়াবহ তাণ্ডব দেশের জন্য বড় হুমকি এবং সরকারের উচিত আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। অপরদিকে, অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা সেই যুবকের গল্প অনেকের কাছেই বিস্ময় ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
সুত্রঃ অষ্ট্রেলিয়া ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম নিউজ ডটকম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au