ওয়াঙ্গারাট্টা পুলিশ স্টেশন থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্যে ব্যারেট সরাসরি ফ্রিম্যানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ২৮ আগষ্ট- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ার পোরেপাঙ্কায় দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর থেকে তৃতীয় দিনেও অভিযুক্ত বন্দুকধারী ডেজি ফ্রিম্যানকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। নিহতরা হলেন ডিটেকটিভ লিডিং সিনিয়র কনস্টেবল নিল থম্পসন (৫৯) এবং সিনিয়র কনস্টেবল ভাদিম ডি ওয়র্ট (৩৫)। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেইনার ট্র্যাকে একটি বাড়িতে গুলি করে তাদের হত্যা করা হয়।
পুলিশ ধারণা করছে, ফ্রিম্যান এখনও পোরেপাঙ্কার আশপাশেই লুকিয়ে আছে। তাকে খুঁজে বের করতে ভিক্টোরিয়া পুলিশের শত শত সদস্য ও বিশেষায়িত বাহিনী আলপাইন অঞ্চলের দুর্গম বনে চষে বেড়াচ্ছে। কিন্তু খারাপ আবহাওয়া ও জটিল ভূপ্রকৃতির কারণে অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ভিক্টোরিয়া পুলিশের ডেপুটি কমিশনার রাসেল ব্যারেট বলেন, “এটি দীর্ঘ সময়ের অনুসন্ধান। ভূপ্রকৃতি জটিল ও বিপজ্জনক, তাই দ্রুত অগ্রসর হওয়া যাচ্ছে না।”
ওয়াঙ্গারাট্টা পুলিশ স্টেশন থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্যে ব্যারেট সরাসরি ফ্রিম্যানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা তোমাকে আত্মসমর্পণে সাহায্য করব। এখনই ট্রিপল জিরোতে ফোন করো।” তার ভাষায়, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের মুখোমুখি করা পুলিশের প্রধান লক্ষ্য।
পুলিশ প্রধান কমিশনার মাইক বুশও স্বীকার করেছেন, ফ্রিম্যান এ এলাকা পুলিশের চেয়ে ভালোভাবে চেনে এবং সে বুশক্রাফটে দক্ষ। অপরাধতত্ত্ববিদ ভিনসেন্ট হার্লে জানান, যদি ফ্রিম্যান আগে থেকে প্রস্তুত থাকে, তবে খাবার, পানি ও অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বনে মাসের পর মাস টিকে থাকতে পারে। তবে পুলিশ ঘিরে রাখায় তার পক্ষে পালানো কঠিন হবে বলেও মনে করছেন তিনি। হার্লের মতে, ঠান্ডা ও ভেজা আবহাওয়া ফ্রিম্যানের ক্ষতি করবে এবং পুলিশকেই সহায়তা করবে।
এদিকে, ব্যারেট এ ঘটনাকে ভিক্টোরিয়া পুলিশের ইতিহাসে “সবচেয়ে কঠিন ঘটনার একটি” বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, গোটা পুলিশ সম্প্রদায় শোকে আচ্ছন্ন হলেও, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সম্প্রদায়ের সমর্থন পুলিশকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য লকডাউনের নির্দেশনা বহাল রয়েছে। পোরেপাঙ্কা ও আশপাশের মানুষকে ঘরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি সতর্কবার্তা কার্যকর আছে। পুলিশ বলছে, এলাকাজুড়ে তীব্র তল্লাশি চালানো হচ্ছে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
শুধু স্থানীয়দেরই নয়, পর্যটকদেরও সতর্ক করেছে পুলিশ। মাউন্ট হথাম ও ফলস ক্রিক ভ্রমণকারীদের পোরেপাঙ্কার রাস্তা এড়িয়ে বিকল্প পথে যাতায়াতের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ, এই শহর দিয়ে ওই জনপ্রিয় তুষার রিসোর্টগুলোতে যাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তায় বড় ধরনের অবরোধ থাকবে এবং পোরেপাঙ্কা এড়িয়ে চলা নিরাপদ হবে।
আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি, ঝড় ও তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে। পুলিশের আশঙ্কা, আবহাওয়া খারাপ হলে অভিযান আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, পোরেপাঙ্কা এখনো টানটান উত্তেজনায় আছে। পুলিশ বলছে, তারা পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তকে যত দ্রুত সম্ভব গ্রেপ্তার করার দিকে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ