দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ, আটক ৯ শতাধিক
মেলবোর্ন, ২ জুলাই- দক্ষিণ আফ্রিকায় চলমান অভিবাসনবিরোধী তীব্র গণবিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে নয় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে…
মেলবোর্ন, ৮ সেপ্টেম্বর- ইউএনজিএ সম্মেলনের আগে বসতি স্থাপন পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় , ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ যেকোনো মূল্যে ব্যাহত করতে চাইছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবার পশ্চিম তীরের অংশবিশেষকে পাকাপাকিভাবে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা কার্যত ‘চিরতরে কবর’ হয়ে যাবে।
সম্প্রতি নেতানিয়াহুর প্রশাসন পশ্চিম তীরে নতুন বসতি স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে। প্রকল্পটির নাম ‘ই১’।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জেরুসালেমের পূর্বে এই বিশাল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ অবিলম্বে শুরু হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে এবং এর একটি অংশ স্থায়ীভাবে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ও নিজেও একজন সেটলার বেজালেল স্মৎরিচ স্পষ্টভাবে বলেছেন—
“এই উদ্যোগ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের চিন্তাধারাকে কবর দেবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সম্মেলন শুরু হবে চলতি মাসের ২২ সেপ্টেম্বর। এতে সহ-আয়োজক হিসেবে যুক্ত থাকবে সৌদি আরব ও ফ্রান্স।
এ সম্মেলনের আগে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এরই মধ্যে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সা’আর হুশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,
“ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া এক মারাত্মক ভুল হবে। যারা এ পথে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে একতরফা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে এবারের ইউএনজিএ অধিবেশনে যোগ দিতে বাধা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর এবং আরও ৮০ জন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার ভিসা খারিজ করেছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, ফিলিস্তিনি নেতারা শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করছেন এবং একতরফাভাবে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন।
এ নিয়ে ফিলিস্তিনি দূত রিয়াদ মনসুর জানান, প্রেসিডেন্ট আব্বাস প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ গভীর বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল। তখন থেকে অঞ্চলটিতে একের পর এক অবৈধ বসতি গড়ে তুলছে ইসরায়েলি সেটলাররা।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির পাশাপাশি বসবাস করছে ৫ লাখ ইসরায়েলি সেটলার। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতি অবৈধ।
এর আগে পূর্ব জেরুসালেম ও গোলান মালভূমি দখল করেছিল ইসরায়েল। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই এখনো ওই অঞ্চলগুলোতে ইসরায়েলের শাসন বৈধ মনে করে না।
জর্ডানের কড়া প্রতিক্রিয়া
পশ্চিম তীর দখল পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন—
“পশ্চিম তীর দখল করে ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো ইসরায়েলি উদ্যোগ জর্ডান প্রত্যাখ্যান করে। গাজার ভবিষ্যৎ নিয়েও যদি একই ধরনের কোনো পরিকল্পনা হয়, জর্ডান সেটিও মেনে নেবে না।”
স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লড়াই নতুন করে বড় সংকটে পড়তে যাচ্ছে। পশ্চিম তীর দখলের ইসরায়েলি উদ্যোগ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে নয়, বিশ্ব রাজনীতিতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন ।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au