নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক পদত্যাগ করেছেন। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী কাঠমান্ডুতেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪৭ জন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সহিংসতার ঘটনায় দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভায় পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, “এত মানুষের প্রাণহানি অচিন্তনীয়। নৈতিকভাবে আমার আর দায়িত্বে থাকা উচিত নয়।”
সম্প্রতি সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেন-জেডরা রাস্তায় নেমে আসে। বিক্ষোভ দমনে সেনা মোতায়েন ও গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)। দলটির সাধারণ সম্পাদক কবীন্দ্র বুর্লাকোটি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, সরকার জেন-জেড প্রজন্মের ওপর ‘নৃশংস দমননীতি’ চালিয়েছে। আরএসপি প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলির পদত্যাগ ও অবিলম্বে নতুন জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
সহিংসতা শুধু কাঠমান্ডুতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বুটওয়াল, ভৈরহাওয়া, ইটাহারি, দামাকসহ কয়েকটি শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে। দামাকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ইস্ট-ওয়েস্ট হাইওয়েতে অবরোধ করে আগুন ধরানোর ঘটনাও ঘটেছে।
চলমান সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী অলির বাসভবনে জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক চলছে। তবে কারফিউ ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় অবস্থান করছেন। ফলে দেশটি একদিকে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে, অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সংস্কারের দাবির চাপে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সুত্রঃ আল জাজিরা