মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- সংযুক্ত আরব আমিরাতে কসমেটিক সার্জারি করাতে গিয়ে এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় দেশের চিকিৎসা অঙ্গনে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্লাস্টিক সার্জনদের চিকিৎসাগত দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে আমিরাতের ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্লাস্টিক সার্জারিকে শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং বিশেষ যত্নের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।
মৃত্যুর ঘটনায় আদালতের তদন্তে উঠে এসেছে, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক স্বীকৃত চিকিৎসা নীতিমালার বাইরে গিয়ে কাজ করেছিলেন এবং রোগীর প্রতি প্রয়োজনীয় যত্ন প্রদানে ব্যর্থ হয়েছিলেন। আদালত স্পষ্ট করে জানায়, যেহেতু কসমেটিক সার্জারি কোনো জরুরি চিকিৎসা নয়, তাই এখানে চিকিৎসকের সামান্যতম অবহেলাও অগ্রহণযোগ্য। অবহেলা বা গাফিলতির কারণে রোগীর জীবনহানি হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে সরাসরি দায়ী করা হবে।
নতুন নিয়মে কী থাকছে?
১ সেপ্টেম্বর ঘোষিত এই রায়ে বলা হয়,
- অস্ত্রোপচারের ঝুঁকি যদি সম্ভাব্য সুবিধার তুলনায় বেশি হয়, তবে রোগীর সম্মতি থাকলেও সার্জন অস্ত্রোপচার শুরু করতে পারবেন না।
- রোগীর প্রত্যাশিত উদ্দেশ্যের তুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করা হলে চিকিৎসক দোষী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
- প্লাস্টিক সার্জনের ওপর অন্যান্য চিকিৎসকের তুলনায় বেশি দায়িত্ব বর্তাবে, কারণ এই চিকিৎসার লক্ষ্য রোগীর শারীরিক ত্রুটি সংশোধন করা, তার জীবন ঝুঁকিতে ফেলা নয়।
আদালতের প্রশাসনিক বিভাগ এই রায় প্রদান করে। এতে সভাপতিত্ব করেন বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান আল জাররাহ। সঙ্গে ছিলেন বিচারক দাউদ ইব্রাহিম আবু আল শাওয়ারেব ও ড. হাসান মোহাম্মদ হাসান হিন্দ।
আদালতের পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়, প্লাস্টিক সার্জনদের দ্বৈত দায়িত্ব রয়েছে—একদিকে রোগীকে সুস্থ রাখা এবং অন্যদিকে সার্জারির কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করা। তাই এ ধরনের সার্জারিতে চিকিৎসকদের যথাযথ সতর্কতা ও যত্ন নিশ্চিত করতেই হবে।
এই রায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের চিকিৎসা খাতে একটি নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিদ্ধান্তটি প্লাস্টিক সার্জনদের আরও দায়িত্বশীল করবে এবং রোগীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
এখন থেকে প্লাস্টিক সার্জনরা শুধুমাত্র রূপ পরিবর্তনের লক্ষ্যেই নয়, বরং রোগীর স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও আইনগতভাবে দায়বদ্ধ থাকবেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ আমিরাতের চিকিৎসা ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন এনে রোগীদের আস্থা আরও বাড়াবে।
সূত্র : খালিজ টাইমস