নেপালের বিক্ষোভ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৯ সেপ্টেম্বর- নেপালে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করায় মন্ত্রীদের সরকারি বাসভবন থেকে সরিয়ে নিচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনী। কাঠমান্ডুর ভৈসেপাটি এলাকায় মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বাড়ির সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করলে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়।
দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মন্ত্রীদের বাসভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে সেনারা। সংসদ ভবন রক্ষায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনা সদস্য। উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের সামরিক ব্যারাকে নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তারা।
কাঠমান্ডু উপত্যকা ও অন্যান্য জেলায় মঙ্গলবার জেনারেশন জেড (জেন-জি) আন্দোলনের বিক্ষোভকারীরা একযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালায়। ললিতপুরে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রিথ্বী সুব্বা গুরুংয়ের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। উপপ্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু পৌডেলের ভৈসেপাটির বাসভবনে পাথর নিক্ষেপ করা হয়। সোমবার পদত্যাগ করা সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাড়িতেও হামলা হয়।
বিরোধীদলীয় নেতা ও সিপিএন চেয়ারম্যান পুষ্পকমল দাহালের বাড়িতেও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। স্থানীয় সংবাদদাতারা জানিয়েছেন, শুধু রাজধানী নয়, বিভিন্ন জেলাতেও মুখ্যমন্ত্রী, প্রাদেশিক মন্ত্রী এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রতিবাদে সোমবার থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন জেলা। সহিংসতায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকশ মানুষ আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নেপাল সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের দায়ে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক।
সুত্রঃ রয়টার্স