চীনের বাজারে এই নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াল স্ট্রিটে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ পড়ে যায়। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা সাইবার স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব চায়না (সিএসি) বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে এনভিডিয়ার তৈরি চিপ কেনা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এটি মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট এনভিডিয়ার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা, টিকটকের মালিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সসহ অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে এনভিডিয়ার তৈরি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ ‘আরটিএক্স প্রো ৬০০০ ডি’-এর টেস্টিং কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই চিপ মূলত চীনা বাজারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল।
এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এই সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা চীনা সরকার ও চীনের কোম্পানিগুলোর প্রতি সহায়ক থাকতে আগ্রহী।”
চীনের বেশ কয়েকটি বড় কোম্পানি ‘আরটিএক্স প্রো ৬০০০ ডি’ চিপের জন্য হাজার হাজার ইউনিট অর্ডার দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও শেষ পর্যন্ত চিপটির চাহিদা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পায়নি। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এই চিপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকে। চিপটির আগের সংস্করণ ‘এইচ ২০’- নিয়েও চীনের প্রতিযোগিতা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।
চীনের বাজারে এই নিষেধাজ্ঞার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ওয়াল স্ট্রিটে এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম ২.৬ শতাংশ হ্রাস পায়, যা প্রযুক্তি বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশাজনক বার্তা হিসেবে ধরা হয়।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা চলছে স্পেনের মাদ্রিদে। আলোচনার পর হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের কার্যক্রম এখন বেসরকারি কোম্পানিগুলোর অধীনে পরিচালিত হবে, যেখানে বাইটড্যান্স সংখ্যালঘু শেয়ারধারী হিসেবে থাকবে।
এদিকে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি যুক্তরাজ্যের ‘স্টারগেট’ প্রকল্পে এনভিডিয়ার প্রসেসর সরবরাহ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছেন। উল্লেখ্য, স্টারগেট একটি এআই অবকাঠামো প্রকল্প, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট এবং এতে ওপেনএআইয়ের নেতৃত্বে বড় আকারে তথ্য কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।
হুয়াং বলেন, “আমি আজ রাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নৈশভোজে দেখা করব। সম্ভবত উনি বিষয়টি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন।” তিনি আরও বলেন, “দুই দেশ নিজেদের ভূরাজনৈতিক নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে, আমরা উভয় পক্ষকেই সমর্থন করব।”
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের নিজস্ব চিপ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে এই নিষেধাজ্ঞা এসেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ধারাবাহিকভাবে চীনের ওপর প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবেও এটি দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও রয়টার্স