মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলাল্ড ট্রাম্প। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ সেপ্টেম্বর- যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য এক বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এইচ-ওয়ান বি ভিসার বাৎসরিক ফি এক ধাক্কায় ১ হাজার ৫০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। শুক্রবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং দেশীয় কর্মসংস্থান রক্ষার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, “বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিবছর অসংখ্য বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে। আমরা এই বার্তা দিতে চাই যে, যদি দক্ষ কর্মী প্রয়োজন হয় তবে মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীদের নিয়োগ দিন অথবা দেশীয় কর্মীদের প্রশিক্ষিত করুন। বিদেশিদের উপর নির্ভরশীলতা কমাতেই এই সিদ্ধান্ত।”
এইচ-ওয়ান বি (H-1B) ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ কর্মসূচি, যার আওতায় মূলত বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (STEM) খাতে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে চালু হওয়া এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, মেটা, অ্যামাজনের মতো শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এই কর্মসূচির সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী।
এতদিন কোম্পানিগুলোকে ভিসা বাবদ বছরে ১ হাজার ৫০০ ডলার ফি দিতে হতো। এবার তা এক লাফে বাড়িয়ে ১ লাখ ডলার করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, বাড়তি খরচ কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় কর্মী প্রশিক্ষণ ও নিয়োগে উৎসাহিত করবে।
ফি বৃদ্ধির ঘোষণার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের কোম্পানি ও স্টার্টআপগুলো বলছে, এত বিপুল পরিমাণ ফি তারা বহন করতে পারবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এতে বিদেশি কর্মী নিয়োগ কমে যেতে পারে, তবে একই সঙ্গে মার্কিন কোম্পানির উদ্ভাবনী সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
অন্যদিকে শ্রম সংগঠন ও নীতিনির্ধারকরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাচ্ছেন। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে এটি মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষা দেবে এবং দেশীয় চাকরির বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক ক্ষেত্রেও। ভারত, চীনসহ এশিয়ার দেশগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি এইচ-ওয়ান বি ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরিসংখ্যান বলছে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিদেশি স্টেম কর্মীর সংখ্যা ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যার বড় অংশ ভারত ও চীন থেকে এসেছে। ভিসা ফি হঠাৎ এত বেশি বাড়ানো হলে এ প্রবাহ ব্যাহত হবে, যা প্রযুক্তি খাতের উৎপাদন ও সেবায় প্রভাব ফেলতে পারে।
এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনি জটিলতার আশঙ্কাও রয়েছে। অনেক কোম্পানি হয়তো আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে, কারণ এতে তাদের আর্থিক ক্ষতি ও প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি আছে। যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নিয়ম ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে এবং শিল্পখাতকে অভিযোজনের সময় দেওয়া হবে।
সরকার আরও বলছে, বিদেশি কর্মীদের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়োগ বাড়ানো হবে এবং প্রশিক্ষণ ও শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, এইচ-ওয়ান বি ভিসার ফি হঠাৎ এতটা বাড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও প্রযুক্তি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এখন সময়ই বলে দেবে—এতে দেশীয় কর্মসংস্থান কতটা বাড়বে, আর কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে মার্কিন প্রযুক্তি খাতের প্রতিযোগিতা ও বৈশ্বিক প্রভাব।
সুত্রঃ রয়টার্স