মেলবোর্ন, ২২ সেপ্টেম্বর– নেপালের সাম্প্রতিক বিক্ষোভে রাজপথে ভেসে উঠেছে এক অদ্ভুত কিন্তু শক্তিশালী প্রতীক—জাপানি অ্যানিমে ওয়ান পিস-এর জলদস্যু পতাকা। সাদা খুলির ওপর খড়ের টুপি আঁকা এই পতাকাটি গত সপ্তাহে রাজধানীর ঐতিহাসিক সিংহ দরবার প্রাসাদের সোনালি ফটকে টানানো হয়, যখন বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে রাজপথ কাঁপাচ্ছিল।
১৯৯৭ সালে প্রকাশ শুরু হওয়া বিশ্ববিখ্যাত জাপানি মাঙ্গা ওয়ান পিস–এর কেন্দ্রীয় চরিত্র ক্যাপ্টেন মাঙ্কি ডি. লুফি এবং তাঁর খড়ের টুপি পরা সঙ্গীরা দুঃসাহসিক অভিযানে জলদস্যু পতাকা ব্যবহার করেন। গল্পে এই পতাকা হলো স্বপ্নকে তাড়া করা, নিপীড়িত মানুষকে মুক্ত করা এবং স্বৈরাচারী শক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রতীক।
নেপালের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন–জি আন্দোলনকারীরা, পতাকাটিকে বেছে নিয়েছে প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে। তাঁদের কাছে লুফির চরিত্র সাহস, হাসি ও অদম্য সংকল্পের প্রতিফলন।
বিক্ষোভ চলাকালে সিংহ দরবারের ফটকে পতাকা উত্তোলনের দৃশ্য নেপালজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়। ঐতিহাসিক এক সরকারি ভবনের সামনে কার্টুনের পতাকা প্রথমে অদ্ভুত মনে হলেও এর ভেতর লুকিয়ে ছিল স্পষ্ট বার্তা—
আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান,বাধা ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার সংকল্প,তরুণ প্রজন্মের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ভাষা ।
বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক বিখ্যাত খাত্রী বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম আন্দোলনটিকে যেন জেন–জি প্রজন্মের আন্দোলন বলে মনে হয়। এই পতাকা আমাদের প্রতীক।”
দুই দিনের টানা অস্থিরতায় নেপালে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। সরকারের পতনের দাবিতে তরুণেরা রাজপথে নেমে আসে। অ্যানিমে ও পপ কালচারের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এ প্রজন্ম রাজনৈতিক প্রতিরোধেও নিজেদের ভাষা খুঁজে পেয়েছে।
জলদস্যু পতাকা তাই শুধু অ্যানিমের জগতের প্রতীক নয়—এটি এখন নেপালের জেন–জি প্রজন্মের জন্য স্বপ্ন, প্রতিরোধ আর স্বাধীনতার রূপক। সীমান্ত ছাড়িয়ে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, এমনকি ইউরোপের ফ্রান্সের রাজপথেও এই পতাকা দেখা যাচ্ছে—প্রমাণ করছে তরুণদের আন্দোলনে প্রতীকের নতুন শক্তি।
সুত্রঃ আনাদোলু