মেলবোর্ন , ২৩ সেপ্টেম্বর- মার্কিন রাজনীতির দুই আলোচিত মুখ — সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং টেসলা ও এক্স–এর মালিক ইলন মাস্ক। বিগত কয়েক মাস ধরে প্রকাশ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে তাদের সম্পর্ক একেবারে ভেঙে গেছে বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে সম্প্রতি আরিজোনার ফিনিক্স শহরের স্টেট ফার্ম স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক স্মরণসভায় দুজনকে পাশাপাশি দেখা যাওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাদের ‘ব্রোমান্স’।
রক্ষণশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিবিদ চার্লি কার্কের স্মরণে আয়োজিত সভায় দর্শকসারিতে ট্রাম্পের পাশে বসে থাকতে দেখা যায় ইলন মাস্ককে। ভিআইপি বক্সে বসা অবস্থায় তারা করমর্দন করেন এবং কিছু সময় কথাও বলেন।
ভিডিওতে দেখা গেছে, কথোপকথনের সময় ট্রাম্প বন্ধুত্বসুলভভাবে মাস্কের হাঁটুতে হাত রাখছেন।
হোয়াইট হাউসের আনুষ্ঠানিক এক্স অ্যাকাউন্ট থেকেও তাদের ছবি শেয়ার করা হয়, যার ক্যাপশন ছিল: “For Charlie”। পরে ইলন মাস্ক নিজ অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি রিপোস্টও করেন।
গত ১০ সেপ্টেম্বর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ চার্লি কার্ক। তাকে স্মরণ করতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, ট্রাম্পের ছেলে এবং প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেন,
“তিনি সাহসিকতার সঙ্গে জীবনযাপন করতেন এবং তিনি চমৎকার বক্তা ছিলেন বলেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
চার্লির স্ত্রী এরিকা সভায় বক্তব্য দিয়ে আততায়ীকে ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন,
“আমার স্বামী তরুণদের বাঁচাতে কাজ করছিলেন। আরেক তরুণ তাকে হত্যা করেছে। আমি ঘৃণার জবাব ঘৃণা দিয়ে দেব না।”
যদিও চার্লি কার্কের অনেক বক্তব্য অতীতে জাতিবিদ্বেষী, অভিবাসনবিরোধী ও নারীবিদ্বেষী হিসেবে সমালোচিত হয়েছে।
ট্রাম্প ও মাস্কের সম্পর্ক একসময় ছিল মধুর। গত নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রচারণার জন্য মাস্ক খরচ করেছিলেন প্রায় ৩০ কোটি ডলার। নির্বাচনের পরও তিনি সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের দায়িত্ব পান।
তবে এ বছরের মাঝামাঝি থেকে সম্পর্কে ফাটল ধরে।
মে মাসের শেষদিকে মাস্ক যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কর ও ব্যয় নীতি সমালোচনা করেন।এরপর ধারাবাহিকভাবে এক্স–এ ট্রাম্পবিরোধী পোস্ট দেন এবং তাকে ‘অকৃতজ্ঞ’ বলেন।জুনের প্রথম সপ্তাহে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, “মাস্কের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ।”ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সসহ রিপাবলিকান নেতারাও তখন মাস্কের সমালোচনা করেন।পরে মাস্ক ঘোষণা দেন নতুন রাজনৈতিক দল “আমেরিকা পার্টি” গঠনের, যদিও কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের পর ট্রাম্প ও মাস্কের একসঙ্গে বসা নিছক কাকতালীয় নাও হতে পারে। এটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণও হতে পারে, কারণ দুজনই ডানপন্থী মতবাদে বিশ্বাসী এবং মার্কিন রাজনীতিতে প্রভাবশালী।
তবে প্রশ্ন থেকে গেছে—
এটি কি কেবল সৌজন্য বিনিময়, নাকি সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে? নিশ্চিত উত্তর মেলেনি। তবে একাধিক বিশ্লেষক বলছেন,
“ডানপন্থী রাজনীতির দুই মহারথীর এই ক্ষণিকের মিথষ্ক্রিয়া নিজেই একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা।”
সুত্রঃ বিবিসি